নিউজ ডেস্ক | ০৬ জুন, ২০১৫
ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকা পৌঁছানোর আগের দিন মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলাদেশে আসেন। মমতার বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছিল দু'দেশেই। তবে গতকাল(৫ জুন) রাত সাড়ে আটটায় এয়ার ইন্ডিয়ার ‘এআই ২০৩ নম্বর ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এসেছেন ছয়জন মন্ত্রী ও রাজ্যসভার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। রয়েছেন বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীও।
শুক্রবার বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম স্বাগত জানান মমতাকে। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বসার পররপরই মমতাকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ফোনে বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি সনির্বন্ধ অনুরোধ- থাকতে হবে অন্তত আর একটা দিন। কালই ফিরে যাওয়া চলবে না! মমতা তাঁকে বললেন, ‘‘ভেবে দেখি! আসলে কলকাতায় অনেক কাজ পড়ে রয়েছে তো।’’ হাসিনা আজ রাতেই মমতাকে নিজের বাসভবনে আসার আমন্ত্রণ জানান। মমতা হেসে বলেন- কালই দেখা হবে।
শনিবার নরেন্দ্র মোদী, শেখ হাসিনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- এই তিন চরিত্রের এক অভূতপূর্ব সমাপতনের সাক্ষী হতে চলেছে ঢাকা। কিন্তু মোদীর এই প্রথম ঢাকা সফরের সব চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল, এখানে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভরতীয় বিভিন্ন গনমাধ্যম বলছে, মমতার ঢাকা সফর নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ছ’মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন মোদী। অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে এবার তাঁর সঙ্গে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানাননি তিনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নিজে মমতার কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন। কুটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে মমতার সঙ্গে একান্তে কথাবার্তা সেরে নিতে চান মোদী।
ঢাকা আসার আগে মমতা কোলকাতায় একটি গণমাধ্যমে বলেছেন, তিনি তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনার বিরুদ্ধে নন। ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্কের বিরুদ্ধেও নন। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ রক্ষা করাটা তাঁর প্রথম কাজ। উত্তরবঙ্গ যদি তিস্তা চুক্তির ফলে প্রয়োজনীয় জল থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সেটা মানা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আলোচনায় যদি এমন কোনও সূত্র বেরিয়ে আসে, যাতে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উভয়েই তাদের প্রয়োজনের জল পেতে পারে, তাতে তাঁর আপত্তির কোনও কারণ থাকতে পারে না।