সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সাঈদ (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। মধু বিক্রেতার ছদ্মাবেশে এই জঙ্গি নেতা বিভিন্ন জায়গা জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ নন্দীগ্রাম উপজেলার ওমর হাটের বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক থেকে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছে ৯ এমএম ক্যালিবারের একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ৩ রাউন্ড গুলি, ৭.৬৫ ক্যালিবার পিস্তলের ৫ রাউন্ড গুলি, একটি মিলিটারি নাইফ (বার্মিজ চাকু) ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরবাইক পাওয়া গেছে।
শনিবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আবু সাঈদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম ব্যবহার করত। সে যে নামগুলো ব্যবহার করত তার মধ্যে আবদুল করিম, তৈয়ব, তালহা শেখ, শ্যামল শেখ, হোসাইন, সাজিদ, ডেঞ্জার, সাকিল, মোখলেস, শফিক।
পুলিশ সুপার জানান, আবু সাঈদ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চর চাঁদপুর গ্রামের শহীদুল্লাহ শেখের ছেলে। ২০০৫ সালে সারা দেশের মত নওগাঁয় সিরিজ বোমা হামলা মামলার রায়ে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়েছিল। এরপর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। তার পারিবারিক নাম আবু সাঈদ হলেও জেএমবিতে তিনি ডেঞ্জার ও ভারতে শ্যামল শেখ নামে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, বাংলাদেশে ফাঁসির রায় হবার পর তিনি ভারতে পালিয়ে গিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার জেএমবি সদস্য ইয়াদুলের মেয়েকে বিয়ে করেন। এরপর সাঈদ মধু বিক্রেতার ছদ্মাবেশে জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
২০১৪ সালে ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় বর্ধমান থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণের পর কলকাতা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি আবু সাঈদ ওরফে শ্যামল শেখ ওরফে তালহা শেখকে ধরিয়ে দেবার জন্য ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে।
এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহীন কাদির শনিবার বিকালে তাকে নন্দীগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।