Sylhet Today 24 PRINT

তারেক-বাবরসহ ৪৯ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০১ জানুয়ারী, ২০১৮

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ সমাবেশে ২০০৪  সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৪৯ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সোমবার (১ জানুয়ারি) মামলাটির ২৫তম দিনে যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান এ শাস্তির দাবি করেন। এদিন আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করায় আদালত তা মঞ্জুর করে আগামীকাল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেই মামলা দুটির রায় ঘোষণা করা হবে।

এর আগে এই দুই মামলায় গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, বিভিন্ন সরকারি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় বনানীর হাওয়া ভবন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু'র ধানমণ্ডির সরকারি বাসভবনসহ ষড়যন্ত্রমূলক সভার স্থানসমূহ তথ্য-প্রমাণের আলোকে তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ তার সহযোগীদের পরিচালিত বিভিন্ন তৎপরতার তথ্য যুক্তিতর্কে তুলে ধরা হয়। প্রকৃত আসামিদের আড়াল করতে নিরীহ জজ মিয়াসহ অন্য নিরীহদের মামলায় সম্পৃক্ত করার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়েও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী, প্রভাবশালী নেতা, প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পরস্পর যোগসাজশে ঘটিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এক পর্যায়ে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে যায়। ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্‌হার আখন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। আসামিদের মধ্যে অন্য মামলায় ইতিমধ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলা দুটি থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.