Sylhet Today 24 PRINT

ডিআইজি মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৯ জানুয়ারী, ২০১৮

অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে এক নারীকে বিয়ে করার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) রাজারবাগে একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে প্রথম বিয়ের খবর গোপন করে অস্ত্রের মুখে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ ওঠে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।

ভাড়া ফ্ল্যাটে ৪ মাস সংসার করার পর পুলিশ কর্মকর্তার সাজানো মামলায় জেলও খাটতে হয় ওই তরুণীকে। এমনকি জোর করে বিয়ে আর নির্যাতনের খবর প্রকাশ করায় হত্যার হুমকিও দেন ডিআইজি মিজানুর।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন অভিযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান অভিযোগ প্রমাণ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে তার বিরুদ্ধে।

ব্যাংকে চাকরির জন্য পরিচিত এক বান্ধবীর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে কথার মাধ্যমে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমানের সাথে প্রথম পরিচয় হয় মরিয়ম আক্তার ইকোর। এরপর থেকে প্রায়ই ফোন দিয়ে মরিয়মের খোঁজ খবর নিতের মিজান। কথা বলার কিছু দিনের মধ্যেই মিজান অশোভন ইঙ্গিতপূর্ন কথা এবং অশোভন আচরণ শুরু করে। এ অবস্থা দেখে পুলিশ কর্মকর্তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন মরিয়ম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরণের প্রতারণা ও জবরদস্তির আশ্রয় নেন মিজান।

ভুক্তভোগী মরিয়মের অভিযোগ, গত ১৪ জুলাই মিজান তাকে ফোন দিয়ে বলেন নিজের পূর্বের আচরণের জন্য তিনি খুবই দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। একথা শুনে মরিয়ম মিজানকে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিজান দাবি করে, তিনি একবার সাক্ষাত করে সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করতে চান। এতে মরিয়ম রাজি না হওয়ায় হুমকি দেয়া শুরু করেন পুলিশ কর্মকর্তা।

কিছুদিন পর বাধ্য হয়ে মরিয়ম পান্থপথের বাসা থেকে বের হয়ে স্কয়ার হাসপাতালের সামনে পুলিশ কর্মকর্তা মিজানের সাথে দেখা করতে যান। তখন কৌশলে তাকে প্রাইভেট কারে উঠিয়ে পূর্বাঞ্চলে নিয়ে যান মিজান। সেখানে সড়কের পাশে নামিয়ে সবার সামনে মারধর করা হয় মরিয়মকে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মিজানের বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে।

মরিয়মের ভাষ্য, ‘আমি খুব রাফলি তার সঙ্গে কথা বলি। আমি তাকে বলি আপনি বাইফোর্স কেন আমাকে এখানে নিয়ে আসলেন? তখন সে নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে ও আমাকে মারপিট করা শুরু করে। তার কাছে আর্মস ছিলো, সেই আর্মস আমার মাথাতেই সে ঠেকায়।’ 

তিনি আরও জানান, ‘আমাকে টেনে-হিঁচড়ে তুলেছে লিফটে। এরপর বাসায় নিয়ে যে পরিমাণ নির্যাতন করা হয়েছে, মারপিট করা হয়েছে, আমি তাতে সেন্স হারিয়ে ফেলি।’

বিয়ের পর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মরিয়ম ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন। আর সে ছবি দেখেই ক্ষেপে যান পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। এরপরই মরিয়মের উপর চলতে থাকে অকথ্য নির্যাতন। এ সময় তার নামে দেওয়া হয় মিথ্যা মামলা। মাত্র ১ মাসের মধ্যে মরিয়মকে অভিযুক্ত করে দেয়া হয় চার্জশিটও। সে মামলায় জেল খেটে বের হওয়ার পর দেয়া হয়েছে আরেকটি মামল।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওই মামলার বাদী কিন্তু আমি না। একটা বাদীও আমি না। এগুলো করার পরে, তার একটা মামলা হয়েছে, জামিন হয়েছে। এরপর আবার মামলা হয়েছে, আবার জামিন পেয়েছে। এর পরবর্তীতে তার বাবা ও তার মায়ের পক্ষ থেকে কমিশনার মহোদয় ও আইজির কাছে লিখিত দেয়া হয়েছে যে অন্যের প্ররোচনায় ও রাগের বশবর্তী হয়ে এটা করেছে সে।’

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘যদি কিছু অন্যায় করে থাকেন, অনৈতিক কিছু করে থাকেন, তাহলে তো অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  আইনের ঊর্ধ্বে নাকি কেউ? কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.