সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮
তাবলিগ জামাতের কেন্দ্র দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের আমির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে না দেওয়ার নেপথ্যে হেফাজতে ইসলামকে দায়ী করছেন তাবলিগ জামাতের একটি অংশ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির নেতারা।
মাওলানা সাদ সমর্থক তাবলিগের নেতারা বলছেন, ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে বিরোধিতা আসার পর মাওলানা সাদ তার ১৯ দফা থেকে সরে এসেছেন। তারপরও বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে বাংলাদেশে তাবলিগের একটি অংশ বিতর্ক তৈরি করেছে, যেখানে বড় শক্তি হিসাবে কাজ করেছে হেফাজতে ইসলাম।
এনিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের মূল কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদের একটি শাখার আমির মিজানুর রহমানের শুক্রবারের এক বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, “তাবলিগের নাম করে হেফাজতের কর্মীরা আর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর এলাকায় ওই গণ্ডগোল করেছে। পিঠ বাঁচানোর স্বার্থে তারা তাবলিগের নাম ব্যবহার করেছে। আর সরকার হেফাজতের কাছে নতি স্বীকার করেছে।”
এ অভিযোগ নাকচ করে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, “ওলামায়ে কেরাম, যারা ইসলামী ধ্যান ধারণা ধারণ করেন, তারাই আন্দোলন করেছেন। তাবলিগের বিরোধী কোনো বক্তব্য আমরা দিইনি। আমিও তাবলিগে যাই। এর সাথে হেফাজতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ফয়জুল্লাহ এই বক্তব্য দিলেও বুধবার বিমানবন্দরের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই ছিল বলে তাবলিগ জামাতের অনেকে বলেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাবলিগের মুকিম পর্যায়ের একজন বলেন, “বিমানবন্দর মোড়ের অবরোধে বড় একটা অংশ এসেছিল বারিধারা মাদ্রাসা থেকে, যেটার প্রধান হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর আমির নূর হোসাইন কাসেমী। ওই এলাকার বিমানবন্দর মাদ্রাসার পাশাপাশি উত্তরা থেকে কিছু সাধারণ তাবলিগকর্মীও সেখানে যোগ দিয়েছিল।”
তাবলিগের এ অংশটি সাদবিরোধী অংশের সমর্থক বলে জানান তিনি।
তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশে আসেন এই মুসলিম সংঘের কেন্দ্রীয় পর্ষদের শুরা সদস্য মাওলানা সাদ, যার দাদা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াছ শাহ (রহ.) প্রায় ১০০ বছর আগে ইসলামের দাওয়াতি কাজকে ত্বরান্বিত করতে দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদ থেকে তাবলিগের কাজ শুরু করেন।
২০১৫ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করছিলেন মাওলানা সাদ। তার আগে হেদায়েতি বয়ান দিতেন তিনি।
এবার বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে মাওলানা সাদের ঢাকা আসার খবরে বুধবার সকাল থেকে বিমানবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ করেন তাবলিগ জামাতের একাংশ। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে বিক্ষোভে দিনভর যানজটে ভুগতে হয় মানুষকে। পরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মধ্যস্থতায় মাওলানা সাদের ইজতেমায় যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার কাকরাইল মসজিদে বয়ান, মোনাজাত এবং বাংলাদেশি ও বিদেশি তাবলিগ জামাত অনুসারীদের সঙ্গে বৈঠকে সময় পার করেন তিনি।
মাওলানা সাদ তাবলিগ জামাতের নিজামুদ্দিন মারকাজকে মক্কা-মদীনার পর ইসলামের সবচেয়ে বড় কর্তৃপক্ষ দাবি করে বক্তব্য দিলে দেওবন্দ মাদ্রাসার ইসলামি পণ্ডিতদের সঙ্গেও তার বিরোধ স্পষ্ট হয়। ইমামতি করে বা কোরআন শিখিয়ে বেতন নেওয়ারও সাদ সমালোচনা করেন, যা বিভক্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
তাবলিগকর্মীদের বিক্ষোভে বুধবার দিনভর যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয় বিমানবন্দর সড়কে চলাচলকারীদের তাবলিগকর্মীদের বিক্ষোভে বুধবার দিনভর যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয় বিমানবন্দর সড়কে চলাচলকারীদের মাওলানা সাদের নেতৃত্ব নিয়ে বাংলাদেশেও তাবলিগ জামাতের বিভক্তি স্পষ্ট হয় গতবছর। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের একটি অংশ টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় সাদের অংশগ্রহণের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামও সাদের আসার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
বাংলাদেশে তাবলিগের ১১ জন শুরা সদস্যের মধ্যে সাতজন মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার পক্ষে ছিলেন বলে জানান তাবলীগকর্মীরা।
তাবলিগের মুকিম ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, তাবলিগ একটি অরাজনৈতিক অহিংস ধর্মভিত্তিক সংগঠন। পক্ষান্তরে হেফাজত একটি রাজনৈতিক সংগঠন। কেননা ইতোপূর্বে হেফাজত বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ‘ব্যর্থ বিপ্লব’ সংঘটিত করেছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রথিতযশা লোকদের জিজ্ঞাস্য, আওয়ামী লীগের বার্ষিক সম্মেলনে কে প্রধান অতিথি হবেন, সেটা কি আওয়ামী লীগ ঠিক করবে, নাকি বিএনপি সদস্যরা ঠিক করে দেবে?
“তদরূপ বিশ্ব ইজতেমায় কে দোয়া করবে, কে আসতে পারবে আর কে আসতে পারবে না- সেটা কি হেফাজতে ইসলাম ঠিক করবে?