সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৭ জানুয়ারী, ২০১৮
পূর্ণিমা রানী শীল নামে এক নারীকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বৃহস্পতিবার থেকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করবেন তিনি।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নির্বাচন-পরবর্তী হামলায় বিএনপি-জামায়াত দলীয় লোকজনের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ১৪ বছরের কিশোরী পূর্ণিমা রানী শীল।
তারানা হালিম তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও জানিয়েছেন পূর্ণিমাকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি। তাতে তারানা লিখেছেন-
মনে পড়ে সেই পূর্ণিমাকে? ২০০১ এর ১ অক্টোবর নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপি-জামাতের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ১৪ বছরের মেয়েটি। হ্যাঁ, আমি সিরাজগঞ্জের সেই পূর্ণিমা শীলের কথা বলছি। আজ আমি গর্বিত আমি পূর্ণিমাকে আমার “পার্সোনাল অফিসার” হিসাবে নিয়োগ দিলাম। পূর্ণিমা, তোমাকে আমরা ভুলে যাইনি। জীবনের অন্ধকার রূপ তুমি দেখেছো, আলোর জগতে তোমায় স্বাগতম… শুরু হোক নতুন পথচলা। তোমাকে অভিবাদন প্রিয় পূর্ণিমা।
পূর্ণিমাকে জড়িয়ে ধরে বেশ কয়েকটি ছবি তুলে তাও পোস্ট করেছেন তারানা হালিম।
১৭ জনকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ওই ঘটনায় আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করেন পূর্ণিমা। ঘটনার ১০ বছর পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন জমার পর ২০১১ সালের মে মাসে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং জরিমানার অর্থ পূর্ণিমাকে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
এরপর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেষ্টা করেছেন পূর্ণিমা। লেখাপড়া শেষ করেছেন, চাকরি করেছেন, বাচ্চাদের গান শেখানোর কাজ করেছেন। তবু হয়রানি তাঁর পিছু ছাড়েনি। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পূর্ণিমা জানিয়েছিলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হয়রানি করা হচ্ছে তাকে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব হয়রানির কারণে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন পূর্ণিমা। বলেছিলেন অন্য কোনো দেশে গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান তিনি।