সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ জানুয়ারী, ২০১৮
পঁচাশিতে পা দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমার জীবনটা আনন্দময়। সারা জীবন আনন্দময় গেছে আমার, কোনো খেদ নেই। জীবনের ষোল আনা তৃপ্তি আমি ভোগ করেছি।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ মন্তব্য করেন। সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি।
মুহিতের জীবন ও কর্ম নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, লেখক ও গবেষক মফিদুল হক।
অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “আমার কাছে পৃথিবী বড় উপভোগ্য। এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য বড় সৌভাগ্যের হবে। আমি সারা জীবন সমসাময়িক ও গুরুজনদের ভালোবাসা পেয়ে এসেছি। এই সৌভাগ্যকে আমি পুঁজি করে রাখতে চাই।
মুহিত বলেন, “আমাদের গ্রুপের প্রত্যেকের জীবনে সংস্কৃতি এক বিরাট প্রভাব রেখেছে। সংস্কৃতি আমাদের প্রত্যেকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে সমৃদ্ধ করেছে। জন্মদিনে এটাই আমার অনুভূতি।”
ইংরেজির ছাত্র মুহিতের সঙ্গে বাংলার ছাত্র অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে আনিসুজ্জামান বলেন, “১৯৫৩ সাল থেকে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি আমার দুই বছরের সিনিয়র ছিলেন। স্কুল জীবন থেকেই বরাবর ভালো ছাত্র মুহিত ভাইয়ের প্রতিভা নানা দিকে বিকশিত হয়েছে। নানা গুণের আকর এই মানুষটি তার সমস্ত গুণ সারাজীবন ধরে রেখেছেন। তার নানা বয়সে তিনি যে ডায়েরিগুলো লিখে গেছেন সেগুলো ইতিহাসের উপকরণ।”
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, “ব্যতিক্রমী মানুষ মুহিত ভাই অসম্ভব প্রাণশক্তির অধিকারী। বলিষ্ঠ মানুষটি জীবন প্রাচুর্যে ভরপুর।”
রামেন্দু মজুমদার বলেন, “আমরা তাকে ঈর্ষা করি। এই বয়সেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি লেখালেখি, গবেষণা কাজেও যেভাবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন, আমরা এত কিছু করেও তার গুণের কাছাকাছি যেতে পারছি না। তিনি প্রচণ্ড স্পষ্টবাদী। তিনি রাবিশকে রাবিশই বলেন।”
মফিদুল হক বলেন, “তিনি আমাদের নতুন জাগরণের পরম্পরার প্রতীক। আমাদের যে অর্থনৈতিক জাগরণ হয়েছে তার নেতৃত্বদাতাদের অন্যতম তিনি।’”
১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া মুহিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর ১৯৫৬ সালে সিএসপি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরের পর অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ডে উচ্চশিক্ষা নেন মুহিত। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার পর তখনকার পাকিস্তান এবং পরে স্বাধীন বাংলাদেশে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮২-৮৩ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকারে প্রথমবারের মতো অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে আসেন মুহিত। সে সময় দুটি বাজেট দিয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি পান অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মুহিতের কাঁধেই রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দুই মেয়াদে টানা নয়টি বাজেট দিয়েছেন মুহিত।
এদিকে, জন্মবার্ষিকীতেই মুহিতের লেখা প্রবন্ধের সংকলন ‘সংকট ও সুযোগ’ প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, অধ্যাপক আবুল বারকাত, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, রাজনীতিক নূহ-উল-আলম লেনিন ও ঢাকা উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম।
সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত এই বইয়ে সংকলিত হয়েছে ৪৪টি প্রবন্ধ।
আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সিআরইয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মুহিতের সঙ্গে কাজ করেছেন নূহ-উল-আলম লেনিন। বই নিয়ে লেনিন বলেন, “বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, বাস্তবতা, সংকট, সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, তেমনিভাবে নানা আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তার বিশেষ আগ্রহ ছিল স্থানীয় সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ। ক্ষমতাকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার তার নানা পরামর্শ আমরা এই বইতে পাই।
“২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহার প্রণয়সের কথাও বাদ দেননি তিনি। মুক্ত, এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের পথে তার নানা পরিকল্পনার কথা আমরা এই বইতে দেখতে পাই।”
মুনতাসীর মামুন বলেন, “মুহিত সব সময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন, বাংলাদেশের খুব কম মানুষ তা পেরেছেন। আমরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সর্বজনশ্রদ্ধেয় বলতে পারি।”