সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোমেনা সোমা অনলাইনে আইএস ও আল-কায়েদাসহ জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণ দেখে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন।
পরবর্তীতে সোমা তার ছোটবোন আসমাউল হুসনাকেও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করেন। তবে তাদের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মোমেনা সোমা নামের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে সেখানকার পুলিশ। সেই সূত্র ধরে তার বাসায় আমরা অভিযান চালাই। সেখানে থাকা তার ছোট বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে নিজেও জঙ্গিবাদে জড়ায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
‘গ্রেপ্তার আসমাউল হুসনাকে জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন ওপেনসোর্স এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলে আমরা এসব তথ্য পেয়েছি। মোমেনা পড়াশোনার জন্য ১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া যান। এর আগে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় পরে অস্ট্রেলিয়া যান।’
‘অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে সে তার ছোট বোন আসমাউল হুসনাকে বলেছিল, সেখানে গিয়ে একটা অঘটন ঘটাবে। যদি বাংলাদেশের পুলিশ তার বাসায় আসে সেখানেও যেন অন্তত একজন পুলিশকে হত্যা করে সে শহীদ হয়।’
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘২০১৫ সালের দিকে মোমেনা সোমা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। সে সময় তার মা মারা যায়। এরপর থেকে সে নিজেকে একটু গুটিয়ে নেয়। ওই সময় থেকে সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।’
প্রসঙ্গত, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোমেনা সোমাকে (২৪) গ্রেফতার করে সে দেশের পুলিশ।
দেশটির পুলিশ জানায়, মোমেনা আইএসের মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এরপর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সোমার বিষয়ে খোঁজ নিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর কাজীপাড়ার তার বাসায় যায়। সেখান থেকে আসমাউল হুসনা ওরফে সুমনাকে গ্রেফতার করা হয়।