সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
প্রতিটি পরীক্ষার হলে থাকবে প্রশস্ত ডিজিটাল স্ক্রিন। সেখানে প্রশ্নপত্র ভেসে উঠবে। তা দেখে উত্তরপত্রে উত্তর লিখবে পরীক্ষার্থীরা। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এমনই ডিজিটাল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কথা চিন্তা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জানালেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সভাকক্ষে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমরা একটা বিষয়ে ভাবছি। কিন্তু নেটের অপর্যাপ্ততার কারণে তা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একটি সিস্টেম ডেভেলপ করা হবে। উক্ত সিস্টেমে সকল প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রশ্ন জমা দেবেন। এক্সপার্টদের কাছ থেকে প্রশ্ন কালেক্ট করবো। সেখানে চাইলে আপনিও (সাংবাদিকদের) প্রশ্ন দিতে পারবেন।’
‘গৃহীত প্রশ্নপত্রের মান যাচাইয়ে গঠিত কমিটি প্রশ্নের মান যাচাই করবেন। সেখান থেকে একটি প্রশ্ন ব্যাংক তৈরি করা হবে। উক্ত প্রশ্ন ব্যাংকের জন্য একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হবে। সকল মানের প্রশ্নের বিন্যাস থাকবে সেখানে। এডমিনিস্ট্রেটরও জানবেন না, কি প্রশ্ন যাচ্ছে’ বলবেন শিক্ষা সচিব।
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এমনই এক অটোমেটেড প্রশ্নপত্র পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রনালয় বলে জানান শিক্ষা সচিব। একটি কন্ট্রোল সিস্টেম থেকে এ প্রশ্ন পাঠানো হবে কেন্দ্রগুলোতে। প্রতিটি পরীক্ষার হলে থাকবে প্রশস্ত ডিজিটাল স্ক্রিন। সেখানে প্রশ্নপত্র ভেসে উঠবে এবং তা দেখে উত্তরপত্রে উত্তর লিখবে পরীক্ষার্থীরা।
সোহরাব হোসেন বলেন, ‘উক্ত প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে সেন্ট্রালি একটি কমান্ডের মাধ্যমে দেয়া হবে। তা প্রতিটি পরীক্ষার হলরুমের ফ্রন্টে একটি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। তখন উক্ত হলের সকল শিক্ষার্থী স্ক্রিনে থাকা প্রশ্ন দেখে পরীক্ষার উত্তর দেবে। ফলে কোনো সুযোগ থাকবে না আর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন প্রস্তাবনার বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা হয়তো এখনো ঐ পর্যায়ে যেতে পারিনি। যে পরিমাণ কেন্দ্র ও শিক্ষার্থী তাতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এ ধরণের সিস্টেমে আসতে না পারলে আপনি প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পারবেন না।’
শিক্ষা সচিব আরো বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা আরও কিছু মতামত নিচ্ছি। আমিও এ বিষয়টা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি। আশা করি আমরা ভাল কিছু করতে পারবো।’
উল্লেখ্য যে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনেককেই আটক করা হলেও কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না প্রশ্ন ফাঁস।