সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) বিমানের সরাসরি কার্গো পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।
রোববার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে উপস্থিত হয়ে এ ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক এ ঘোষণা দেন। এ সময় বিমানমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান হিসেবে এয়ার ভাইস মার্শাল মো. নাইম হাসান, বিমান সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দু’বছর পর কার্গো নিয়ে সরাসরি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে আকাশে উড়তে যাচ্ছে বিমান।
সিভিল এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের আশা, খুব শিগগির অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।
নিরাপত্তার অজুহাতে ২০১৬ সালের মার্চে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্য তার দেশে সরাসরি কার্গো পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাজ্যের পর অস্ট্রেলিয়া পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশও নৌ ও আকাশপথে সরাসরি কার্গো পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইইউর টিম বাংলাদেশকে সরাসরি কার্গো রফতানির ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
বিমানমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল বলেন, বর্তমানে শাহজালালে কার্গো পণ্য স্ক্রিনিংয়ে অ্যাভসেক ও বিজিবির ডগ স্কোয়াড কাজ করছে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন দিয়েও ডগ স্কোয়াড নামানো হয়েছে। সর্বশেষ সংযোজন করা হয় অত্যাধুনিক এক্সপ্লোসিভ ডিটেনশন সিস্টেম (ইডিএস)। তাতে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন যতগুলো শর্ত দিয়েছিল সব শর্ত পূরণ হয়। তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন ইউরোপ-আমেরিকা মানের।
জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞার ফলে বছরে বিমানে ৩০ হাজার চারশ’ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছিল। ব্যাহত হয়েছিল দেশের ভাবমূর্তি। ধস নেমেছিল বিমানের কার্গো ব্যবসায়। তবে এতদিন অন্য দেশের মাধ্যমে রি-স্ক্যানিং করে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় কার্গো রফতানি অব্যাহত ছিল।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন দুই দিনের সফরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসেন। সফরকালে তিনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সিভিল এভিয়েশনকে ডিএফটি যেসব শর্ত দিয়েছিল তার সব শর্ত বাংলাদেশ পূরণ করেছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সদ্যবিদায়ী ঢাকার ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ডেভিড অ্যাশলে ওই সময় বলেছিলেন, ২০১৭ সালের শেষের দিকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছিল ইউকে ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্ট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ইউকের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদে দু’জন পরামর্শক নিয়োগ, এভিয়েশন সিকিউরিটিতে ইউকে মডেল অনুসরণ করা। এসব বিষয়ে ব্যাপক উন্নতি করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ থেকে বছরে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের (১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা) পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। যার বড় অংশ হচ্ছে তৈরি পোশাক। এর মধ্যে বিমানে পরিবহন করা হয় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ। টাকার হিসাবে এর পরিমাণ ৩০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। প্রথম হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আর দ্বিতীয় স্থানে আছে ইইউ।