সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৩ জুন, ২০১৫
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকায় একটি বাসায় এক নারী পুলিশ সদস্যকে সাবেক স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা ও তার তিন বন্ধু মিলে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওই নারী পুলিশ সদস্যের বড় বোন জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারী সদস্য তুরাগ থানায় কর্মরত। গাইনি সমস্যার কারণে গত ১০ জুন রাজারবাগ পুলিশ লাইনে তিনি চিকিৎসা নিতে যান। তখন তার সাবেক স্বামী পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শকের পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা কৌশলে তাকে হাসপাতাল থেকে তিলপাপাড়ার ৮৬ / ৩ নম্বর বাসায় নিয়ে যান। এরপর রাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও তার তিন বন্ধু মিলে তাকে রাতভর ধর্ষণ করেন।
ওই নারী কনস্টেবলের বড় বোন আরও বলেন, চার বছর আগে তার বোনের সঙ্গে ওই এএসআইয়ের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের তিন বছর পর ওই এএসআই ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং ‘আজেবাজে’ কথা বলে বোনকে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছিল। এসব নিয়ে এক বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
ওই ঘটনা নিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে ওই নারী কনস্টেবল আদালতে মামলা করেছিলেন বলেও জানান তার বোন।
বিচ্ছেদের পর গাজীপুরে মায়ের সঙ্গে থাকেন ওই নারী কনস্টেবল। গত ১০ জুন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন তিনি।
ঘটনার শিকার ওই নারী কনস্টেবল জানান, ২০১১ সালে খিলগাঁও থানার সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কালিমুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ২০১৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তার সাবেক স্বামী কালিমুর রহমান বুধবার রাতে তাকে ডেকে খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ার একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে কালিমুর রহমানসহ আরও কয়েকজন মিলে সারারাত তাকে ধর্ষণ করেন।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কৌশলে তিনি ওই বাসা থেকে বের হয়ে খিলগাঁও এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন। সেখান থেকে শুক্রবার তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর শনিবার ঢামেক হাসপাতালে আসেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, ওই নারী পুলিশ সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে খিলগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুরো ঘটনাটি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ওই নারী কনস্টেবল শনিবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তার সাবেক স্বামী খিলগাঁও থানার এক সহকারী উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন।
তিনি বলেন, বিচ্ছেদের পর ওই পুলিশ দম্পতি পুনরায় বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।
ওসি মোস্তাফিজ আরও বলেন, মেয়েটি ও তার স্বামী গত বৃহস্পতিবার খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনারের দপ্তরে এসে জানায়, তারা আবার বিয়ে করতে চায়। স্যার বলেছিলেন- পুলিশ তো কারও বিয়ে দেয় না। এটা তোমাদের নিজস্ব বিষয়, তাই নিজেরাই সমস্যার সমাধান করে নাও।
নারী কনস্টেবলের বড় বোন জানান, তারা এখনও কোনো মামলা করেননি। বোন সুস্থ হলে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ওসি মুস্তাফিজ জানান, খিলগাঁও থানায় দায়িত্বপালনে থাকা এএসআই কালিমুর রহমান বর্তমানে স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন) এ কর্মরত আছেন।
এ ব্যাপারে কালিমুরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।