সিলেটটুডে ওয়েব ডেস্ক | ১৪ জুন, ২০১৫
একজন যোদ্ধা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে 'বাবা'সহ অন্তত দুইশ’ মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এরপর থেকে সৈয়দ মহসীন আলী সিগারেট ধরেছেন। জানিয়েছেন যে দিন তিনি থাকবেন না সেদিন থেকে তাঁর সিগারেট খাওয়া শেষ হবে।
সম্প্রতি একটি অনলাইন নিউজ সাইটের সঙ্গে কথা বলছিলেন সৈয়দ মহসীন আলী। জানান- তাঁর ছেলের জন্যেই সিগারেট খান। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন- ‘যুদ্ধের শেষদিকে পাঞ্জাবি সেনারা ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। পাঞ্জাবিরা আমিসহ আমার সঙ্গে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধানের জন্য ছেলেকে নির্যাতন করে। কিন্তু নির্যাতনের পরও ছেলে মুখ খোলেনি। হিদিন (সেদিন) যদি নির্যাতনের ডরে পুয়ায় (ছেলে) আমিসহ আমার সঙ্গে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কইলাইতো (বলত) তা অইলে আমরা সব খতম অই যাইতাম’। (সূত্র: আমার বাংলাদেশ অনলাইন)
তবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটের তথ্য অনুযায়ী, "১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২৩ বছর বয়সে তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।"
ওই নিউজ পোর্টালকে মহসিন আলী বলেন, নাম না কওয়ার অপরাধে পুয়ারে পাঞ্জাবিরা মারি লাইছে। যদি নাম কইতো তা অইলে আমিসহ ২০০ জন মুক্তিযোদ্ধারে মারি লাইত পাঞ্জাবিরা। নিজে মরিয়া আমরারে বাঁচাইয়া দিছে। এর বাদে পুয়ার লাগি টেনশন অইতে লাগল। আর টেনশন কমাইবার লাগিয়া সিগারেট খাইতে শুরু যে করলাম, তা ওখনও আছে।’
নিজের সিগারেট খাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী জানান- ‘৪৪ বছর ধরি সিগারেট খাইয়া যাইরাম। ব্যামার (অসুখ) অইলে ডাক্তরর দার (কাছে) যাই, ডাক্টর কয়-সিগারেট খাইতাম না। কে হুনে কার কথা।’
প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্যে সিগারেট তাঁর সিগারেট প্রসঙ্গে জানান- ‘ইতা মাতিয়া লাব নাই। আমার পুয়ার লাগি সিগারেট খাওয়া ধরছি। যেদিন আমি থাকতাম না হিদিন মহসিন আলীর সিগারেট খাওয়া শেষ অইব।’
উল্লেখ্য, সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীকে ঘিরে সিগারেট বিষয়ক প্রথম সমালোচনার শুরু হয় গত বছরের ২৭ জানুয়ারি সিলেট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের-২০১৩ সালে জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসে ধূমপান করার কারণে। সমালোচনার মুখে তিনি ক্ষমাও চান।