সিলেটটুডে অনলাইন ডেস্ক | ০৪ মার্চ, ২০১৮
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এবার শিশুদের 'প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা' (পিইসি) থেকে নৈর্ব্যক্তিক বা বহুনির্বাচনী অংশ বাদ দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নৈর্ব্যক্তিক বাদসহ শতভাগ কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতিতে (সৃজনশীল) প্রশ্ন প্রণয়ন, নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে প্রশ্ন বিতরণ এবং আগের চেয়ে প্রশ্নপত্রের সেট বেশি ছাপানো হবে। এ ব্যাপারে আগামী ৫ ও ৭ মার্চ দুটি সভা করে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, নানা পর্যবেক্ষণে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ঘটনা জানা গেছে। এ কারণে আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ (নৈর্ব্যক্তিক) অংশ বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
তিনি বলেন, নৈর্ব্যক্তিক বাদ দিয়ে কোন ধরনের রচনামূলক প্রশ্ন যুক্ত হবে, তা নির্ণয় করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'কে (নেপ) সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাসিক সমন্বয় সভায় পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সভায় প্রাথমিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ বাদ দিয়ে রচনামূলক কী কী প্রশ্ন যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।
সূত্র জানায়, সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী শতভাগ সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্ন বিতরণের সময় প্রশ্নপত্র যেন ফাঁস না হয় সে কারণে সফটওয়্যারের মাধ্যমে আট দিনের মধ্যে প্রশ্ন বিতরণ (আগে ২৫ দিন সময় প্রয়োজন ছিল) করা হবে। ছয় সেট প্রশ্নপত্রের বদলে আট সেট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের সভাপতিত্বে ওই সভায় মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সমাপনী থেকে এমসিকিউ বাদ যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ৫ ও ৭ মার্চ দুটি সভা করা হবে। সেখানে আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার ১২টি বিষয়ের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকায় দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকান্ড নিয়ে সারাদেশে সৃষ্টি হয় বিতর্ক। এ কারণে চলতি বছরের প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারির ওই সভায় মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক বা বহুনির্বাচনী প্রশ্ন তুলে দেওয়া সমীচীন হবে উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ছাপানোর ক্ষেত্রে বিজি প্রেসের বিকল্প আরেকটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চলতি বছরের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) থেকে চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার এমসিকিউসহ (নৈর্ব্যক্তিক) প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজনের রূপরেখা সারাদেশের স্কুলগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এ আদেশ জারির মাত্র আট দিন পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ (নৈর্ব্যক্তিক) পদ্ধতি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকের ছয়টি বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ২০, গণিতে ২৪, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০, প্রাথমিক বিজ্ঞানে ৫০ এবং ধর্ম বিষয়ে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র রয়েছে। নতুন নির্দেশনার আলোকে এমসিকিউ বাদ দিয়ে এসব জায়গায় রচনামূলক প্রশ্ন যুক্ত করা হবে।
খবর: সমকাল অনলাইন।