নিউজ ডেস্ক | ১৫ জুন, ২০১৫
কুমিল্লার চান্দিনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার স্ব-পরিবার হত্যা মামলার অন্যতম আসামী কর্ণেল (অব.) আব্দুর রশিদ এর সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে সরকারের পক্ষে কুমিল্লা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) হাসানুজ্জামান কল্লোল এর নির্দেশে এবং চান্দিনা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) উপস্থিতিতে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী রশিদ এর নিজ বাড়িসহ ৬.১২ একর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ৬টি সাইনবোর্ড সাঁটায় চান্দিনা থানা পুলিশ।
চান্দিনা থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এস.আই) সাজেদুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার দায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশিত স্মারক মোতাবেক চলতি বছরের ১৫ ফেরুয়ারী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বঙ্গবন্ধুর আত্ম্স্বীকৃত খুনি কর্ণেল (অব.) আব্দুর রশিদ ও তার বাবা আব্দুল করিম এর সকল ওয়ারিশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
এস.আই সাজেদুল আরও জানান, ওই সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জকে দায়িত্ব প্রদান করে বিজ্ঞ আদালত। ওই নির্দেশ মোতাবেক রবিবার দুপুরে ছয়ঘরিয়া-করতলা-পানিপাড়া ও থানগাঁও মৌজার ৬.১২ একর সম্পত্তিতে ‘তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি সরকারের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি, ওই সম্পত্তিত্বে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছে।
এসময় উপজেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) আলী আফরোজ, থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) রসুল আহমেদ নিজামী, সংশ্লিস্ট ইউনিয়নের উপসহকারি ভূমি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর একই ভাবে আদালতের নির্দেশে খুনি রশিদ এর আরও ১০.৮২ একর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। যারফলে রশিদ ও তার পরিবারের প্রায় ১৭ একর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকার।
থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) রসুল আহমেদ নিজামী জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখন থেকে ওই সকল সম্পত্তি তদারকি করবে চান্দিনা থানা পুলিশ। যদি কোন জনগণ ওই সম্পত্তিতে অনাধিকার প্রবেশ করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট সর্ব কালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে বুক ফুলিয়ে চলছিলেন সেনা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুর রশিদ। ১৯৯৬ সালে জাতির জনকের উত্তরসূরী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর আত্মগোপনে চলে যায় বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী কর্নেল রশিদ। সাথে সাথে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আত্মগোপন করে।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার গঠন করার পর কর্নেল রশিদ এর পরিবার আবারও সক্রিয় হয়ে উঠে। মেয়ে মেহনাজ রশিদ খন্দকার গ্রামের বাড়িতে যাতায়াতসহ রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাতে শুরু করেছিল। জন সমর্থন অর্জনসহ আইনি জাল থেকে রার উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে জনস্বার্থে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার চালু করেন মেহনাজ।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে মেহনাজ রশিদ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাথে সাথে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর আবারও পিছু হটতে শুরু করে কর্নেল আব্দুর রশিদ এর পরিবার। আব্দুর রশিদ এর মেয়ে মেহনাজ রশিদ খন্দকারকে পুলিশ ঢাকা থেকে গ্রেফতার করার পর তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করলে তার আর বাড়িতে আসা হয়নি।
অপরদিকে বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য খুনীদের সাথে বিজ্ঞ আদালত খুনী আব্দুর রশিদ ফাঁসির রায় ঘোষনা সাথে সাথে স্থাবর-অবস্থাবর সকল সম্পত্তি জব্দ করায় ওই বাড়িতে সাধারণ মানুষ বা উৎসুক জনতাও ঢুকার সাহস পায় না।