Sylhet Today 24 PRINT

নিজের ছেলে নয়, দলের ছেলের চিন্তায় সিগারেট ধরেছি : সিলেটটুডেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৫ জুন, ২০১৫

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া নিজের ছেলের চিন্তায় সিগারেট ধরেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে এমন একটি সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

তবে আজ (সোমবার) সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম'র সাথে আলাপকালে মহসিন আলী জানিয়েছেন, নিজের ছেলে নয়, নিজের দলের ছেলে, যাকে পাকসেনারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তাঁর চিন্তাতেই  সিগারেট ধরেছিলেন তিনি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বরাত দিয়ে সে অনলাইন নিউজ পোর্টালে উল্লেখ করা হয়-

তাঁর বড় ছেলে ও তিনি এক সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ‘যুদ্ধের শেষদিকে পাঞ্জাবি সেনারা তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। পাঞ্জাবিরা আমিসহ আমার সঙ্গে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধানের জন্য ছেলেকে নির্যাতন করে। কিন্তু নির্যাতনের পরও ছেলে মুখ খোলেনি। ’ এই বীরত্বের জন্য নিজের ছেলেকে ‘বাপের বেটা’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘হিদিন যদি নির্যাতনের ডরে পুয়ায় আমিসহ আমার সঙ্গে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কইলাইতো তা অইলে আমরা সব খতম অই যাইতাম। তিনি বলেন, নাম না কওয়ার অপরাধে পুয়ারে পাঞ্জাবিরা মারি লাইছে। যদি নাম কইতো তা অইলে আমিসহ ২০০ জন মুক্তিযোদ্ধারে মারি লাইত পাঞ্জাবিরা। নিজে মরিয়া আমরারে বাঁচাইয়া দিছে। এর বাদে পুয়ার লাগি টেনশন অইতে লাগল। আর টেনশন কমাইবার লাগিয়া সিগারেট খাইতে শুরু যে করলাম, তা ওখনও আছে"।

‘আমার বাংলাদেশ অনলাইন’ ওয়েব পোর্টালের সূত্র ধরে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমেও “মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ‘পুয়ার লাগি’ সিগারেট খান সৈয়দ মহসীন আলী!” শিরোনামে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়।  যেখানে ‘পুয়ার লাগি’ শব্দগুলো উদ্ধৃতিসূচক চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করে এবং মুল শিরোনাম শেষে বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহার করে

একইসঙ্গে সিলেটটুডের রিপোর্টে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে প্রদত্ত তথ্য উল্লেখ করে লেখা হয়- মাত্র ২৩ বছরে বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন মহসিন আলী।  এ সংবাদটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নেয়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁদের গ্রুপের একজন ছেলে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তাঁদের জীবনকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী বলেন- আমার দলের ছেলে বলে নয়, দ্যাট ইজ মুক্তিযোদ্ধা,... তার জন্যে আমার খুব চিন্তা ছিল, ... আর যাকে মেরে ফেলেছে তার নাম বাবুল।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী দুইজনের কথা জানান যাদের একজন নাম মিসবাহ যিনি বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ তাঁর দলের সে ‘ছেলে’র নাম বাবুল।

সৈয়দ মহসীন আলী বলেন- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার গ্রুপের এক ছেলে বাবুলকে পাকিস্তানি আর্মি হত্যা করে এবং মিসবাহ নামক অপর এক মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালায়। পাকিস্তানি আর্মিদের হাতে আটক মুক্তিযোদ্ধা মিসবাহর জন্য তখন

কমান্ডার হিসেবে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। এই চিন্তা থেকেই তখন সিগারেট খাওয়া শুরু। ২৩ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সৈয়দ মহসিন জানান, মিসবাহ বা বাবুল কেউই তার ঔরসজাত সন্তান নয়, তারা মুক্তিযোদ্ধা এবং তার দলের সদস্য। কামান্ডার হিসেবে তার দলের সদস্যদের তিনি 'আমার পুয়াইন' (আমার ছেলেরা) বলতেন।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে সিলেট নগরীর নজরুল একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠান শেষে এমনটি জানান মহসিন আলী। এসময় তিনি বলেন, দলের ছেলে তো নিজের ছেলেই।

মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁদের গ্রুপের একজন ছেলে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তাঁদের জীবনকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন- আমার দলের ছেলে বলে কি আমার ছেলে নয়?

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.