সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৭ জুন, ২০১৫
হাউস অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর লেবার দলীয় টিউলিপ রেজওয়ান সিদ্দিক বাংলাদেশি সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন- ‘…সবচেয়ে মনে পড়ছে আমার খালাকে। কারণ উনি আমাকে সবচেয়ে বেশি শিখিয়েছেন।… রাজনীতি নিয়ে উনার কাছ থেকেই সব শিখলাম। সোশাল জাস্টিসটা শিখলাম। শিখলাম কীভাবে ক্যাম্পেইন করতে হয়। মানুষের কাছে যেতে হয়। খালাকেই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে’।
সে খালা হাউস অব কমন্সে উপস্থিত ছিলেন যখন ভাগ্নি বক্তৃতা করছিলেন। এ খালা-ভাগ্নি হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানার মেয়ে লেবার দলীয় এমপি টিউলিপ রেজওয়ান সিদ্দিক। এটা ছিল লণ্ডনের পার্লামেন্টে টিউলিপের দেওয়া প্রথম বক্তব্য।
হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসনে লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে কি না এ বিতর্কে অংশ নেন।
লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্র শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে হাউজ অব কমন্সের গ্যালারিতে বসে টিউলিপের বক্তৃতা শোনেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গ্যালারিতে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা, পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া টিউলিপের ভাই রেদোয়োন মুজিব সিদ্দিক এবং স্বামী ক্রিস পার্সেও উপস্থিত ছিলেন।
টিউলিপ তার ভাষণে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে বর্বরোচিত হত্যার কথা স্মরণ করেন। দশ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্নের নাগরিক হওয়ার পটভূমি তুলে ধরেন। এ আসন থেকেই গত মাসের নির্বাচনে তিনি পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। তাকে নির্বাচিত করার জন্য টিউলিফ তার আসনের ভোটারদের অভিনন্দন জানান এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
লেবার পার্টির এই পার্লামেন্ট সদস্য অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাজ্যের দরজা খোলা রাখার দাবি জানান। তার বক্তৃতার সময় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পার্লামেন্ট সদস্য রুশনারা আলী এবং ড. রুপা হক হাউজ অব কমন্সে উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাউজ অব লর্ডসের স্পিকার বেরোনেস ডি’সুজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী জানান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পৌঁছলে বাংলাদেশ বিষয়ক অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান কেইথ ভাজ তাঁকে স্বাগত জানান।