সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৯ এপ্রিল, ২০১৮
বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৯ এপ্রিল) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিলটি উত্থাপন করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
উত্থাপিত বিলে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রোপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা মদদ দেন তাহলে ওই ব্যক্তি অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আবার যদি কোনো ব্যক্তি একই অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃবার সংগঠন করেন তাহলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক তিন কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এরআগে গত ২৯ জানুয়ারি খসড়া আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা তথ্য-প্রযুক্তি আইন থেকে সরিয়ে সেগুলো আরও বিশদ আকারে যুক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে।
ডিজিটাল আইনে ৫৪ ধারায় অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতায় বলা হয়েছে, (ক) ১৭, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ ধারার অপরাধসমূহ আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য হবে।
এসব ধারায় যেসব অপরাধের কথা উল্লেখ আছে- ১৭ ধারায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বে-আইনি প্রবেশ, (১৯) কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম ক্ষতিসাধন, (২১) মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আমলযোগ্যতা প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা, (২৩) ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক প্রতারণা, (২৪) পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ, (২৬) অনুমতি ব্যতিত পরিচিত তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার, (২৭) সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটন, (২৮) ওয়েবসাইট বা কোনো ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এমন তথ্য প্রকাশ, (৩০) আইনানুগ কর্তৃত্ব বহির্ভূত ই-ট্রানজেকশন, (৩১) আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, (৩২) কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তি (৩৪) হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ।
বিলে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। ১১ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সদস্য হিসেবে থাকবেন।