সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৯ এপ্রিল, ২০১৮
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কোটা আন্দোলনে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত না মেনে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাধারণ আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (০৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার পর আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত না মানা আন্দোলনকারীদের একাংশ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাবি শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে থেকে সরে যান।
এসময় আন্দোলনকারীদের একজন বিপাশা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের যে কমিটি ছিল। তারা আমাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই আন্দোলন স্থগিত করেছেন। আমরা এই সিদ্ধান্ত মানি না। আন্দোলন চলবে। আমি অনুরোধ করবো পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে।
নতুন কর্মসূচি বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, যদি ১৫ এপ্রিলের মধ্যে কোটা সংস্কারের ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না জানানো হয় তাহলে আগামী ১৬ তারিখ চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে চলে আসবে।
আন্দোলনকারীদের একাংশের পরবর্তী কর্মসূচি-
নিরাপত্তাহীন বোধ করে বিপাশা বলে, আমরা নিজেদের এখানে নিরাপদ বোধ করছি না। কর্মসূচি আজকের মতো শেষ। আজকে কর্মসূচি স্থগিত। কাল সকাল ১১টায় ফের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হবে লাগাতার ধর্মঘট ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি।
বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিবালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ২০ জনের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসেন তারা। তারপর বৈঠক সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবগত করেন পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। তারপর থেকে এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে আন্দোলনকারীদের একাংশ ‘ভুয়া মানি না মানব না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
এতে পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের সিদ্ধান্ত না মানেন তাহলে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সরে যাব। এক মাসে প্রধানমন্ত্রী দুইবার দেশের বাইরে থাকবেন, ক্যাবিনেট মিটিংয়ে আলোচনাটা দেরি হবে বিধায় এক মাস পেছানো হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে দাবি আদায়ে কার্যকরী সিদ্ধান্ত না হলে প্রয়োজনে আগামী ৭ মে ফের আন্দোলন।’
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী মাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ও রোজা। এই পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে মুলো ঝুলিয়েছে সরকার। আমরা এ সিদ্ধান্ত মানি না। অন্তত কোটা সংস্কারের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
প্রসঙ্গত, কোটা পদ্ধতির সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও জেলা পর্যায়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন চাকরি প্রত্যাশীরা। ৮ এপ্রিল চাকুরি প্রত্যাশীরা শাহবাগে অবস্থান নিলে রাতেই পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে লাঠিচার্জ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হবার অভিযোগ উঠলে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। এরই প্রেক্ষিতে আজ ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।