নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ এপ্রিল, ২০১৮
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সাথে প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে কোটা সংস্কারের দাবীতে চলমান আন্দোলন নিয়ে দেওয়া বক্তব্য এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, তারা (আন্দোলনকারীরা) যেহেতু চায় না তাহলে কোটা থাকারই দরকার নেই। প্রতিবন্ধী ও নৃগোষ্ঠীর জন্য আমরা আলাদা ব্যবস্থা করতে পারবো।
'প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কী ব্যবস্থা করা যায় তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে বলা হয়েছে। যাকে যাকে দরকার নিয়ে তিনি বসে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন' বলেন জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, 'আমি মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেই এটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য। আমাদের সেতুমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বসলো। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত হলো। অনেকে মেনে নিলো, অনেকে মানলো না। অনেক রাত পর্যন্ত তারা টিএসসিতে থেকে গেল।'
‘কোটা ব্যবস্থা বাদ, এটাই আমার পরিষ্কার কথা’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন ‘কোটা থাকলেই সংস্কারের প্রশ্ন আসবে। এখন সংস্কার করলে আগামীতে আরেক দল আবারও সংস্কারের কথা বলবে। কোটা থাকলেই ঝামেলা। সুতরাং কোনও কোটারই দরকার নেই।’
ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক কোটা বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বলেন।
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরির ৫৬ শতাংশ বিভিন্ন কোটার প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, ১০ শতাংশের বেশি কোটায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না। গত ফেব্রুয়ারি থেকে টানা আন্দোলন চললেও রোববার তা সহিংস রূপ নেয়।
৯ এপ্রিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ' এর আন্দোলনকারীরা বৈঠকে বসে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত হলেও তারপর আন্দোলনে দেখা দেয় বিভক্তি। যদিও পরদিন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারো লাগাতার কর্মসূচিতে ফিরে আসে 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ'।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা করে বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকালে 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ' তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।