Sylhet Today 24 PRINT

ঢাবিতে সংঘাত ও ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনায় চার মামলা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১১ এপ্রিল, ২০১৮

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় হামলার ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১১ এপ্রিল) পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের কর আরেকটি মামলা সহ সর্বমোট চারটি মামলা শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন।

তিনি জানান, “উপাচার্যের বাসায় হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এছাড়া পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পক্ষ থেকে করা একটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে।”

তবে এসব মামলায় মোট কয়জনকে আসামি করা হয়েছে বা আসামির তালিকায় কাদের নাম রয়েছে- সেসব বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলায় কী কী ক্ষতির কথা বলা হয়েছে, সে তথ্যও জানা যায়নি।


রোববার (৮ এপ্রিল) শাহবাগ মোড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ করলে রাতে পুলিশ তাদের লক্ষ করে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে তাদের সরিয়ে দেয়। এরপরপরই বিক্ষোভ আর সংঘাত ছড়িয়ে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে।

প্রায় সারা রাত ধরে চলা পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যেই রাত দেড়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় পাঁচ শতাধিক তরুণ সেখানে ছিল। তারা গেইট ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাংচুর করে। তাদের অনেকেরই মুখ ছিল কাপড় দিয়ে ঢাকা। দুই তলা ওই বাসভবনের ঘরে ঘরে ঢুকে জানালার কাচসহ প্রায় প্রতিটি আসবাবপত্র তারা ভাংচুর করে। এমনকি বাথরুম ও রান্নাঘরও তছনছ করে হয়। ভবনে হামলার শুরুতেই ভবনের সিসি ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছিল।

উপাচার্য আখতারুজ্জামান পরদিন (সোমবার) সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বাসায় যারা এসেছিল তারা মুখোশ পড়ে এসেছিল। লাশের রাজনীতি করতে এসেছিল। প্রাণনাশের জন্য এসেছিল। দেশকে অস্থিতিশীল করতে এসেছিল।”

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই হামলা চালিয়েছে ‘বহিরাগত সন্ত্রাসীরা’। এর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই।


এই হামলার নিন্দা প্রকাশ করে বুধবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভিসির বাড়ি যারা ভেঙেছে, লুটপাট করেছে, লুটের মাল কোথায় আছে, কার কাছে আছে, ছাত্রদেরই তো বের করে দিতে হবে। যারা ভাঙচুরে জড়িত, তাদের অবশ্যই বিচার হতে হবে।

ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,ছাত্র–শিক্ষকের সহযোগিতা চাই। এত বড় অন্যায় আমরা মেনে নিতে পারি না। এখনো শিক্ষক যারা বেঁচে আছেন, তাঁদের সম্মান করি। গুরুজনকে অপমান করে প্রকৃত শিক্ষা হয় না।’


টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.