Sylhet Today 24 PRINT

ধর্ষণের শিকার নারীর \'টু ফিঙ্গার টেস্ট\' নিষিদ্ধ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১২ এপ্রিল, ২০১৮

ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর শারীরিক পরীক্ষার 'টু ফিঙ্গার টেস্ট' নিষিদ্ধ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া একজন নারী চিকিৎসক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে ধর্ষণের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত নারী বা শিশুর পরীক্ষা করাতে হবে বলেও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সহিদুল হক ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ অবৈধ ঘোষণা এ রায় দেন।

হাইকোর্টের এ রায়ে ধর্ষণের ক্ষেত্রে পিভি টেস্ট নামে পরিচিত আঙ্গুলের সাহায্যে বায়ো ম্যানুয়াল টেস্ট নিষিদ্ধ করা হয়। সেই সাথে এখন থেকে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশু ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে ২০১৭ সালে সরকার ঘোষিত গাইডলাইন (প্রোটোকল ফর হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) কঠোরভাবে অনুসরণ করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পাঁচ বছর আগের এক রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে আদালত বলেছেন, ‘দুই আঙ্গুলের সাহায্যে বাংলাদেশে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি আইনসম্মত বা বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। এমনকি এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা বিশ্বাসযোগ্যও নয়।’

রায়ে আদালত বলেছেন, ধর্ষণ মামলার বিচার চলাকালে আইনজীবীরা নারীর প্রতি অমর্যাদাকর কোনো প্রশ্ন করতে পারবেন না। পরীক্ষার পর ধর্ষিতার যাবতীয় গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ সরকার যে হেলথ প্রটোকল করেছে, সেই বিধি মেনে রেপ ভিকটিমদের পরীক্ষা ও ভার্জিনিট টেস্ট করতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার সময় একজন নারী গাইনোকোলজিস্ট, একজন নারী ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ভিকটিমের একজন নারী আত্মীয়, একজন নারী পুলিশ সদস্য, নারী সেবিকাসহ মোট ছয় সদস্য সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

রায়ে আরও বলা হয়, ‘যদি ক্ষতিগ্রস্তের আঘাত বা ক্ষত গভীর থাকে, সেক্ষেত্রে একজন গাইনোকোলজিস্টের কাছে তাকে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে এ গভীর ক্ষতের পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে তা লিখতে হবে। কোনো আঘাত বা ক্ষত না থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত নারী, শিশু ও তরুণীর ক্ষেত্রে স্পার্স স্পেক্যুলাম (এক ধরনের যন্ত্র, যা দিয়ে যৌনাঙ্গ এলাকায় পরীক্ষার করা হয়) পরীক্ষা করা যাবে না।’

এই রিটের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, শারমিন আক্তার প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এস এম নাজমুল হক।

দুই আঙুলের মাধ্যমে ধর্ষণ পরীক্ষা পদ্ধতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর ব্লাস্ট, আসক, মহিলা পরিষদ, ব্র্যাক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, নারীপক্ষসহ দুই চিকিৎসক এ সংক্রান্ত রিট আবেদনটি করেন।

রিটে দুই আঙুলের মাধ্যমে ধর্ষণ পরীক্ষার পদ্ধতিকে সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৩৫(৫) ও সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারার পরিপন্থী দাবি করা হয়।

হাইকোর্টের দেওয়া এ নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, চিকিৎসক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, প্রসিকিউটরকে কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

উল্লেখ্য, ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর শারীরিক পরীক্ষার 'টু ফিঙ্গার টেস্ট' বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন অধিকারকর্মীরা। তারা বলে আসছিলেন যে, দুই আঙ্গুলের 'অযৌক্তিক' ওই পরীক্ষা ভিকটিমকে আবার ধর্ষণ করার শামিল।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.