সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৪ এপ্রিল, ২০১৮
লালনের দর্শনে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’- প্রতিপাদ্যে উদ্ভাসিত বঙ্গাব্দ ১৪২৫ কে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।
প্রতিবারের মতো এবারও মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাজির হয়েছেন হাজারো মানুষ। বাংলার চিরায়ত সাজে নববর্ষ বরণ করছে সবাই।
শনিবার সকাল নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্যরা।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার আটটি প্রতীক-সূর্য, বক-মাছ, হাতি, পাখি, সাইকেলে মা-শিশু, টেপা পুতুল, মহিষসহ চারটি পাখি ও জেলে। এগুলো বাঁশ, কাঠ ও বিভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে তৈরি।
তিন দশক ধরে বর্ষবরণের অন্যতম আকর্ষণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা।
১৯৮৯ সালে স্বৈরাচার বিরোধী বার্তা নিয়ে চারুকলা থেকে শুরু হয় পহেলা বৈশাখের এই আনন্দ শোভাযাত্রা। সময়ের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে তা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম পায়। বাঙালির বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রা বখেন ইউনেস্কোর ‘ইনটেনজিবল হেরিটেজ’ এর অংশ।
শোভাযাত্রার শুরুতে আছে একটি বড় উজ্জ্বল সূর্য ও তারপরে আছে মাছ, বক, টিয়া পাখি, হাতি, ষাঁড়। হাজারো মানুষ বিভিন্ন রঙে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন।
শোভাযাত্রার দুপাশে নিরাপত্তার জন্য আছেন পুলিশ সদস্যরা। পেছনে র্যাব সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া প্রহরায় এবারের শোভাযাত্রা হয়। চারুকলা থেকে শুরু হয়ে এটি শাহবাগ ঘুরে টিএসসি পর্যন্ত গেছে। এরপর আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়।