সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৭ এপ্রিল, ২০১৮
মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসে মুঠোফোন অপারেটরদের ইউএসএসডি (আনস্ট্রাকচার্ড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডাটা) চ্যানেল ব্যবহারের বিপরীতে সেশন ভিত্তিক চার্জ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে বিটিআরসি শিগগিরই একটি নির্দেশনা জারি করবে বলেও জানা গেছে।
সোমবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত হয়।
যেসব ইউএসএসডি সেশনে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় হয়, সেসব ক্ষেত্রে প্রতি ৯০ সেকেন্ডের একেকটি ইউএসএসডি সেশনের জন্য ৮৫ পয়সা হারে চার্জ পাবে মুঠোফোন অপারেটররা। এক্ষেত্রে দুটি এসএমএসও এই মূল্যের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে যেসব সেশন থেকে কোনো রাজস্ব আসে না, সেগুলোর জন্য ৪০ পয়সা করে পাবে মুঠোফোন অপারেটররা। তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা পরবর্তী কোনো সেশনের জন্য ইউএসএসডি চার্জ গুনতে হবে না মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতাদের।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রতি সেশন ৯০ সেকেন্ড হিসেবে সেশন প্রতি ৮৫ পয়সা ইউএসএসডি চার্জ প্রস্তাব করছিল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। অন্যদিকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনা করে তা ২০ পয়সায় সীমিত রাখার কথা বলেছিল।
বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠানোর জন্য ৫ টাকা হারে চার্জ দিতে হয় গ্রাহকদের। এছাড়া ক্যাশ আউট সেবার জন্য ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হারে গ্রাহকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারিরা। আর এই রাজস্বের ৭ শতাংশ মুঠোফোন অপারেটরদের সঙ্গে ভাগ করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারিরা। মোট রাজস্বের ৭৭ শতাংশ পায় এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটর এবং বাকি ১৬ শতাংশ যায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে।
মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসে ইউএসএসডি চার্জ আরোপ ফলে শেষ পর্যন্ত গ্রাহক নয়তো মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতাদেরকেই এই বর্ধিত চার্জ পরিশোধ করতে হবে। আর মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতারা নিজেদের মুনাফা ঠিক রাখতে গিয়ে ডিস্ট্রিবিউটর বা এজেন্ট কমিশনও কমিয়ে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতারা ক্যাশ ইন, পেমেন্ট, এয়ারটাইম রিচার্জ, ব্যাল্যান্স চেক করার মতো বেশকিছু সেবা বিনামূল্যে প্রদান করছে। নতুন নিয়মে এসব ক্ষেত্রেও ইউএসএসডি চার্জ প্রদান করতে হবে। এছাড়া একটি লেনদেন সম্পন্ন না হলেও শুধু চেষ্টা করার কারণেই এই চার্জ প্রযোজ্য হবে। যার ফলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার খরচ বৃদ্ধি পাবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতাদের সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ২৮টি ব্যাংককে এই সেবা চালুর অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠান ছোট কিংবা বড় পরিসরে নিজ নিজ ব্র্যান্ডে এই সেবা পরিচালনা করছে। মূলত ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা গ্রাহকদের কথা চিন্তা করেই কম খরচের এই সেবা চালু হয়েছিল।