নিউজ ডেস্ক | ১৫ জানুয়ারী, ২০১৫
অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয় অভিমুখে মিছিল করেছে একদল লোক।
‘দিনমজুর শ্রমজীবী জনতা লীগ’র ব্যানারে প্রায় অর্ধশত মানুষ বৃহস্পতিবার সকালে বনানী থেকে মিছিলটি বের করেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে মিছিল গুলশান ২ নম্বরের মোড়ে পৌঁছালে তাদের বাধা দেয় পুলিশ।
এরপর সেখানে অবস্থান নিয়ে প্রায় ২০ মিনিট বিক্ষোভ করে চলে যান তারা।
‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘অবরোধ-হরতাল মানি না, মানবো না’, ‘হরতাল কেন, খালেদা জিয়া জবাব চাই’, ‘অবরোধকারীদের আস্তানা, গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি শ্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
“খালেদা জিয়ার অবরোধ কর্মসূচির প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি,” বলেন আবুল আসাদ নামে এক বিক্ষোভকারী।
‘দিনমজুর শ্রমজীবী জনতা লীগ’র সভাপতি তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “অবরোধের কারণে আমাদের কাজ নেই। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। এটা দুই নেত্রী বোঝেন না। আমরা খালেদা জিয়ার কাছে আবেদন জানাচ্ছি-অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিন।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পুরুষদের পরনে ছিল লুঙ্গি, শার্ট, টি-শার্ট গেঞ্জি। কারও পায়ে স্যান্ডেল, কারও পা খালি। নারীদের পরনে ছিল সাদামাটা শাড়ি, থ্রিপিস। কারও কারও কাঁধে কোদাল, হাতে কুন্তি দেখা যায়।
পুলিশি বাধায় গত ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়ে সারা দেশে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
অবরোধের শুরু থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। গাড়িতে আগুনে এরইমধ্যে নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
মহাসড়কে যান চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় শীতের মৌসুমে উৎপাদিত সব্জি বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন জেলায় পণ্য পরিবহন ঠিক না থাকায় সেখানে বাড়ছে নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম। জ্বালানি তেলের সংকটও দেখা দিয়েছে কোথাও কোথাও।
অবরোধে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা ক্ষতির কথা জানিয়ে এ কর্মসূচি প্রত্যাহারে বিএনপি নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আবেদ মিয়া নামে এক দিনমজুর বলেছেন, তিনি প্রতিদিনের মতো সকালে কাজের সন্ধানে বনানী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আসলে শ্রমিক লীগের নেতারা তাকে বকশিস দেওয়ার কথা বলে মিছিলে নিয়ে আসেন।