সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ জুন, ২০১৫
সাবেক মন্ত্রী এবং বহিষ্কৃত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে হজ ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগ এনে করা আরও দশ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাই কোর্ট। তবে একই অভিযোগে আরও পাঁচটি মামলা থাকায় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা লতিফ এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) লতিফ সিদ্দিকীর আবেদনের ওপর শুনানি করে বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি মো. ফরিদ আহমদ শিবলীর বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেয়। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকাল একটি করে এবং চট্টগ্রামের সাতটি মামলা রয়েছে।
আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির।
এই দশ মামলায় লতিফকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেওয়ার পাশাপাশি মামলাগুলোর কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে আদালত। এসব মামলা কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করা হয়েছে, মামলার বাদী ও সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে যার জবাব দিতে হবে। এর আগে ঢাকার হাকিম আদালত ও জজ আদালত এসব মামলায় লতিফের জামিন নাকচ করেছিল।
আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান কবির বলেন, “এ নিয়ে মোট ১৭টি মামলায় লতিফ সিদ্দিকী জামিন পেলেন। তবে আরও পাঁচটি মামলা থাকায় তিনি আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না।”
গত বছর ২৯ সেপ্টেমম্বর নিউ ইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেশ ও দেশের বাইরে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।
বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনগুলো সাবেক এই মন্ত্রী বিচার দাবি করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ ছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর মহাজোট সরকার মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণ করে।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে ভারত হয়ে দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী। ২৫ নভেম্বর ধানমণ্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তিনি নিম্ন আদালতে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করা হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারা মোতাবেক মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন লতিফ সিদ্দিকী।
আবেদনে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা অনুযায়ী দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধ নিজ দেশে বিচার করতে হলে মামলা দায়েরের আগে সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া সংবিধানের ৩৫(২) ধারা অনুযায়ী একই অপরাধের ঘটনায় একাধিক মামলা চলতে পারে না। এই বিবেচনায় মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে জামিন চাওয়া হয়।