সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৮ জুন, ২০১৮
সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এবং ‘নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে’ আরও ৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ জুন) রাতে ও শুক্রবার ভোরে এসব ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন ও দিনাজপুরে ‘নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে’ একজন নিহত হয়েছেন। নিহত তিনজনই মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি পুলিশের।
রংপুর:
রংপুর নগরীর কুকরুল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মাদক বিক্রেতা আবু মুসা ওরফে বিষখালি (২৭) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১০২ পিস ইয়াবা ৪৭ বোতল ফেনসিডিল ও একটি পিস্তল। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, কয়েকজন মাদক বিক্রেতা নগরীর কুকরুল এলাকায় অবস্থান করছে। এমন গোপন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে আবু মুসা ওরফে বিষখালি নিহত হন।
নিহত আবু মুসার বাড়ি নগরীর হনুমানতলা এলাকায় । তার বাবার নাম আব্দুল কুদ্দুস। মুসার নামে মাদক আইনে ১১টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
দিনাজপুর:
দিনাজপুরে মাদক বিক্রেতাদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে আব্দুর রাজ্জাক (৩০) নামে একজন শীর্ষ মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটারগান পিস্তল, ১০০বোতল ফেনসিডিল ও একটি ক্রিস উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক দিনাজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ কোতোয়ালির ১০ নং কমলপুর ইউনিয়ন পরিষদের দাইনুর কঞ্চকুড়ি গ্রামের মৃত কমির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, দিনাজপুরের সদর উপজেলার দক্ষিণ কোতোয়ালির কুসুমদী আদর্শ বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার ভোর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, মাদক বিক্রেতাদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে রাজ্জাক আহত হন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধারের পর দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। নিহত আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে থানায় ৮টি মামলা রয়েছে।
এছাড়া বিশেষ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মাদকসহ ৩০জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শামীম হোসেন নামে ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যিনি মাদক কারবারি বলে দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ধর্মগড়ের ভদেশ্বরী এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এটি পঞ্চম বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা।
নিহত শামীম রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকার আব্দুল সাত্তারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ভদ্রেশ্বরী এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে শামীমসহ কয়েকজন মাদক কারবারি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে শামীম গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া আহত হয় দুই পুলিশ সদস্যও।
শামীমকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে ৩৪০ পিস ইয়াবা ও দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শামীমের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় মাদকের আটটি মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ