নিউজ ডেস্ক | ১৬ জানুয়ারী, ২০১৫
নিহত মতিউর রহমান (৩৫) শিবগঞ্জের বাজিতপুর গ্রামের উনসার আলীর ছেলে। তিনি ওই এলাকায় হাতবোমা বিস্ফোরণ, ট্রাকে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের পিছনে ‘মূল ব্যক্তি’ হিসেবে কাজ করতেন বলে দাবি করেছে র্যাব।
র্যাব সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে কানসাটে র্যাব-৫ এর সদস্যদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মতিউর নিহত হন।
অন্যদিকে মতিউরকে নিজেদের কর্মী দাবি করে তাকে ধরে নিয়ে হত্যার অভিযোগ করেছে বিএনপি।
র্যাবের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর কামরুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িত অভিযোগে বৃহস্পতিবার কানসাট থেকে মতিউরসহ তিন জনকে আটক করা হয়।
“মতিউরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী র্যাব সদস্যরা রাত সাড়ে ৩টার দিকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে তাকে সঙ্গে নিয়ে কানসাটের একটি আমবাগানে গেলে তার সহযোগীরা র্যাবের দিকে লক্ষ করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করে।
“এ সময় মতিউর পালানোর চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।”
পরে ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ১৭টি হাতবোমা ও ১০টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।
নিহতের লাশ শিবগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়েছে বলে র্যাব কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেছেন, মতিউর যুবদলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
“তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৫ জানুয়ারি সারা দেশে লাগাতার অবরোধের ডাক দেওয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাতবোমা বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাংচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।
গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমায় এরইমধ্যে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
দেশজুড়ে চলমান এই রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকা বিজিবি সদস্যরা সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে কোনো বোমাবাজকে গুলি করতে কুণ্ঠিত হবে না বলে বৃহস্পতিবার বাহিনীটির পরিচালক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন।