সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ জুন, ২০১৮
সৌদি আরবের অর্থায়নে দেশজুড়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মিত হওয়ার কথা। অথচ অনুমোদনের একবছর পেরিয়ে গেলে ‘প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক এ প্রকল্পে অনুদান দিচ্ছে না দেশটির সরকার। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের বিকল্প ভাবতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের অনুদান দেওয়ার কথা ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৮২ কোটি টাকা দিয়েই বেকে বসেছে দেশটি। এ অবস্থায় হতাশ মসজিদ বাস্তবায়ন সংস্থা ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতবছর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। কিন্তু এখনও সৌদি আরবের সহায়তা পাওয়া যায়নি। ফলে মূল প্রকল্পটির প্রধান কার্যক্রম এখনও শুরু করা হয়নি। এ কারণে প্রকল্পটি আবারও সংশোধন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৬ জুন) প্রকল্পটি সংশোধনের জন্য জাতীয় একনেক সভায় উত্থাপন করা হবে। কর্মকর্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে যেভাবে নির্দেশনা দেবেন সেই মোতাবেক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম বলেন, এখনও সৌদির অনুদান পাওয়া যাচ্ছে না, পাওয়ার আশাও নেই। আপাতত দেশীয় অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে অথবা নতুন উন্নয়ন সহযোগী খুঁজতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো, সৌদি সহযোগিতা পাওয়ার চিন্তা আপাতত বাদ। তারা (সৌদি) ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা দেওয়ার কথা দিয়েছিলো অথচ দিয়েছে মাত্র ৮২ কোটি। ফলে প্রকল্পটি একনেক সভায় সংশোধনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
জানা যায়, প্রকল্পটি ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা। এখন এ মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে।
দেশের সব জেলা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলায় মসজিদগুলো নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে ৬৪টি জেলায় ও উপকূলীয় এলাকায় ১৬টি চারতলা মসজিদ নির্মাণ করা হবে। বাকিগুলো হবে তিনতলা। এসব মসজিদে দৈনিক চার লাখ ৪০ হাজার ৪৪০ জন পুরুষ ও ৩১ হাজার ৪০০ জন নারীর নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।
কর্মকর্তারা জানান, মডেল মসজিদগুলোতে লাইব্রেরির সুবিধাও থাকবে। প্রতিদিন ৩৪ হাজার পাঠক একসঙ্গে কোরআন ও ইসলামিক বই পড়তে পারবেন।
এসব মসজিদে প্রতিবছর ১৪ হাজার হাফেজ তৈরির ব্যবস্থাও থাকবে। থাকবে ইসলামিক নানা বিষয়সহ প্রতিবছর এক লাখ ৬৮ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা।