সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ জুন, ২০১৮
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের বেশ ধরে নাশকতার ছক কষেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। তার প্রমাণ স্বরূপ মোবাইল ফোনের কয়েকটি কথোপকথনের অডিও ঘুরছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও ইউটিউবে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মিজানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে।
কন্সপেরেসি লিক নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে মেজর (অব.) মিজানের কথোপকথনের একটি অডিও প্রকাশ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে ওই অডিও ক্লিপটি যে মেজর অব. মিজানের তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে অডিওতে অন্য প্রান্তের কণ্ঠটির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি গোয়েন্দারা।
প্রধানমন্ত্রীর পিএস আশরাফুল আলম খোকনও এই অডিও টেপটি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেছেন।
অডিওতে মিজান অপর প্রান্তের এক ব্যক্তিকে গাজীপুর নির্বাচনের বিষয়ে বলতে শোনা যায়, আমাকে একটা ছেলে, পাড়লে দুটি ছেলে দাও। যারা আওয়ামী লীগের ব্যাচ লাগিয়ে ঘুরতে পারবে। এরকম কিছু ছেলে ম্যানেজ করতে পারবা?
তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, হ্যাঁ, রানিং আছে।
উত্তরে মিজান বলেন, আছে? প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের লোক নাও, যারা মনে মনে বিএনপি। আছে এমন?
ওপরে প্রান্ত থেকে পজিটিভ উত্তর পেয়ে মিজান বলেন, তিনটা ছেলে সিলেক্ট করো, হ্যাঁ? ওরা নৌকার ব্যানার নিয়ে ঘুরবে । ওদের আমি বলে দেবো। ওদের টাকা-পয়সা দিয়ে দেবনে। আমি ইলেকশনের দিন যন্ত্রপাতি দিয়ে দেবনে। তুমি ছেলে তিনটা আগে সিলেক্ট করো। তিন সেন্টারের জন্য তিনজন। ওকে?
অপর পাশের সম্মতই পেয়ে মিজান বলেন, যে পোলিং সেন্টারটা, মানে যেকোনও তিনটা পোলিং সেন্টারের যেকোনও একটা সেন্টারের পাশে আমাদের লোকের বাড়ি থাকতে হবে। যে বাড়ির জানালার পাশে বসে... দোতলা কিংবা তিনতলা বাড়ি থাকলে ভালো হয়।
আরেকটি অডিও টেপে শোনা যায়, মিজান সেই আগের ব্যক্তিকে পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন।
এসময় তিনি বলেন, একটা বাসা ঠিক করো, লাগলে ২/৪ হাজার টাকা, তিন হাজার টাকা যদি দিতে হয় দিয়ে দাও। যে কোন সেন্টারের পাশে।
ঢাকায় ট্রেনিং দেওয়ার কথা বলে মিজান বলেন, ৪টা ছেলেরে ঠিক করো। সাহসী ছেলে, হাত পা যেন না কাঁপে। এদেরকে ঠিক করে একটা গাড়ি নিয়ে তুমি ঢাকায় চলে আসবা। এখানে ট্রেনিং দিয়ে ছাইড়া দিবো।
এদিকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সোমবার (২৫ জুন)গভীররাতে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মিজানকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার বলেন, সোমবার (২৫ জুন) দিনগত রাত ৩টার দিকে মিজানকে তার গুলশান-১ এর ৮ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকধারী পুলিশ। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনে কল দিলে কেউ রিসিভ করছেন না।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘থানা পুলিশ তাকে আটক করেনি। ডিবি পুলিশের একটি অভিযান ছিল। তারা আটক করতে পারে।’
মিজানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে তার পরিবারের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।