সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ জুন, ২০১৮
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নাশকতার ছক তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমান মিজান হাত ঘড়িতে ক্যামেরা লাগিয়ে নৌকায় সিল মারার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানা যায়।
মঙ্গলবার (২৬ জুন) রাতে ধানমন্ডি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখা হয় বিএনপির এই নেতাকে। মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) এই মামলা করে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মিজান গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বুকে নৌকার ব্যাচ লাগিয়ে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার দখল করে নৌকায় সিল প্রদান ও রিস্ট ওয়াচে (হাত ঘড়ি) থাকা তাদের গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে তা ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের দিক নির্দেশনা দেয়। আটকের সময় আসামিদের কাছ থেকে তিনটি ক্যামেরাযুক্ত হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সোমবার রাতে মিজানকে ধরতে অভিযান চালাতে গেলে তার পরিবারের সদস্য, স্ত্রী ও কন্যা পুলিশের কাজে বাধা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন।
এজাহারে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার (২৭ জুন) মিজানকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মিজানের বিরুদ্ধে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক (এসআই) আরমান আলী সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত এই আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এই মামলায় আরো গ্রেপ্তার দেখা হয়- শফিকুল ইসলাম, মো. জিন্নাত, মো. জুনায়েল হোসেন জয় ও মো. আসাদ আলীকে।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাত ৩টার দিকে গুলশান-১ এর ৮ নম্বর সড়কের ১০ নম্বর বাড়ি থেকে মেজর (অব.) মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত ১টা থেকে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ তার বাসা ঘিরে রাখে।
গ্রেপ্তারের পরদিন মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নাশকতার ছক কষার দুটি অডিও ক্লিপ সংগ্রহ ছড়িয়ে পরে।