মো. দেলোয়ার হোসেন | ২৯ জুন, ২০১৫
‘ভাবিছিলাম হাসিনা ক্ষমতায় এলি অন্তত নিরাপদে থাকতি পারবানে, জান-মাল নিয়ি বাঁচতি পারবানে; কিন্তু তার আর জো কোনে! শওকতের অত্যাচার থেকি রেহাই পালাম কোনে? আমাদির কি কোনো আমলি শান্তি নাই? এত ক্ষ্যামতা শওকতে ক্যামনি পায়েছে, কোথ থেকি পায়েছে?’
নিজেদের ভিটেমাটি হারানো এক বৃদ্ধা নিজের আকুতি জানালেন এভাবে। অভিযোগের তীর শেখ শওকত হোসেন ওরফে শওকত চেয়ারম্যানের (৪২) দিকে, যিনি বাগেরহাটের রারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
জানা যায়, শওকত চেয়ারম্যানের অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। ভুক্তভোগি হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই অভিযোগ করেছেন চাঁদাবাজি, হত্যার হুমকি, বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, জোরপূর্বক জমি দখল এবং মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষকে হয়রানি করাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে শওকত চেয়ারম্যান সম্পৃক্ত । একাধিক মামলার আসামি শওকত চেয়ারম্যানের স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা জানান, শওকত চেয়ারম্যান নিজেও মাদকাসক্ত।
সরেজমিনে জানা যায়, বারুইপাড়া, নিকারিপাড়া, কাটাখালি, কার্তিকদিয়া, কোধলাসহ আশেপাশের গ্রামের স্থানীয়রা শওকত চেয়ারম্যানের অত্যাচার-নির্যাতনে তটস্থ থাকে। কেউ মুখ খুলতে রাজি হয় না। যাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হয়েছে তারা প্রাণ ভয়ে এখন বাড়িছাড়া। এমনকি প্রাণের ভয়ে কেউ থানায় অভিযোগ পর্যন্ত করতে সাহস পাচ্ছে না। এর আগে বিএনপি ক্ষমতা থাকাকালে শওকত চেয়ারম্যানের এই ধরণের অত্যাচার-নির্যাতনে কেউ কেউ দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়েছে। সরকার বদল হলেও চেয়ারম্যানের ক্ষমতার বদল হয়নি।
এদিকে নিকারিপাড়ার বাসিন্দা মো. হামিদুর হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপি আমলে তো বটেই, বর্তমান আমলেও বেশ কিছু হিন্দুবাড়ি দখল করেছে শওকত চেয়াম্যান। কেবল সংখ্যালঘুরাই নয়; তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থকেরাও। কেবল আওয়ামী লীগকে সমর্থন করার কারণে তিনি তো বটেই, অনেককেই প্রাণের ভয়ে দীর্ঘদিন গ্রামের বাইরে অবস্থান করতে হয়েছে।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে শেখ শওকত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সব মিথ্যা’- বলেই মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর অনেকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোজাম্মেল হক বলেন- 'মাত্র দুই মাস হলো আমি এই থানার দায়িত্ব পেয়েছি। তাই অভিযোগগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি বলতে পারবো না। তাছাড়া চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।'