Sylhet Today 24 PRINT

ঈদযাত্রার পথে দুর্ঘটনায় নিহত ৩৩৯

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৯ জুন, ২০১৮

এবার রোজার ঈদে সড়ক-মহাসড়কে ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৩৩৯ জন নিহত এবং এক হাজার ২৬৫ জন আহত হয়েছেন।

এ সময়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে মোট ৩৩৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪০৫ জন নিহত ও ১ হাজার ২৭৪ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী তাদের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার ঈদের আগে সব তদারকি সংস্থার সক্রিয় অবস্থানের কারণে ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে তদারকি না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১১ জুন থেকে ২৩ জুন দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৩ দিনে সারা দেশে ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৯ জন নিহত ও ১ হাজার ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌ-পথে ১৮টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত, ৫৫ জন নিখোঁজ ও ৯ জন আহত হয়। রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩৫ জন, ট্রেন ধাক্কায় ৪ জন ও ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ২ জনসহ মোট ৪১ জন নিহত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দূরপাল্লায় চালকদের যাতে একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে না হয় সেজন্য বিকল্প চালক রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়া সড়কের পাশে বিশ্রামাগার তৈরি, সিগন্যাল মেনে চলা, অনিয়মতান্ত্রিক রাস্তা পারাপার বন্ধ, সিট বেল্ট বাঁধা এবং চালক ও তার সহকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

মোজাম্মেল বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন তা আমলে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে সড়কে মৃত্যুর যে গণমিছিল চলছে তা থামানো সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।”

তিনি বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল ‘বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য’ জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

ফিটনেসবিহীন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন; বিরতিহীন বা বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালনা; অদক্ষ চালক ও হেলপার দিয়ে যানবাহন চালনা; মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, নসিমন-করিমন ও মোটর সাইকেল অবাধে চলাচল; মনিটরিং ব্যবস্থার অভাব; বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো; সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাত না থাকা এবং সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা জন্য জাতীয় পর্যায়ে সরকারিভাবে চালক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত রাস্তার রোড সেফটি অডিট করা এবং ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে তাদের প্রতিবেদনে।

এছাড়া পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা; মহাসড়কে ধীরগতির যান ও দ্রুত গতির যানের জন্য আলাদা লেইনের ব্যবস্থা; মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, অটোরিকশা বন্ধে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা; ভাঙ্গা রাস্তাঘাট মেরামত; ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ফুটপাত, আন্ডারপাস, ওভারপাস তৈরি করে পথচারীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করারও সুপারিশ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.