সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৩ জুলাই, ২০১৫
আইসিটি বিভাগের উদ্ভাবন তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে চার লক্ষ টাকা অনলাইনভিত্তিক বিতর্কিত সিপি গ্যাংকে দেওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হলে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সিপি গ্যাং লিমিটেডের নাম বদলে সেখানে ‘হ্যাপিওয়ার্কস’ নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের নামে অনুদান দিয়েছে এমন প্রচার করছে- জানিয়েছে একটি জাতীয় দৈনিক।
উদ্ভূত পরস্থিতিতে অনলাইন, বিশেষ করে ফেসবুক পেজভিত্তিক সংগঠন সিপি গ্যাং প্রোডাকশন লিমিটেড নাকি হ্যাপিওয়ার্কস নামের প্রতিষ্ঠান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবন তহবিলের অনুদান পেয়েছে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনুদানের চেক হস্তান্তরের মাত্র এক দিনের মধ্যে অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নাম কী প্রক্রিয়ায় পরবর্তন হলো এবং পরিবর্তন হলে আগের প্রতিষ্ঠানকে কী বাতিল করা হয়েছে এমন কোন জবাবও মেলেনি। আর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ নিয়ে পরিস্কার কোন বক্তব্যও দেয়নি।
৩০ জুন সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সম্মেলনকক্ষে উদ্ভাবন তহবিলের (ইনোভেশন ফান্ড) আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে উদ্ভাবনী কাজের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের অনুদান এবং উচ্চশিক্ষার জন্য ফেলোশিপের চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানের পর আইসিটি বিভাগ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুষ্ঠানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং অনুদান ও ফেলোশিপপ্রাপ্তদের তালিকা পাঠানো হয়। উদ্ভাবন তহবিল থেকে তৃতীয় পর্বে অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে সিপি গ্যাং প্রোডাকশন লিমিটেডকে চার লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় সিপি গ্যাংয়ের নাম থাকায় অনলাইনে তুমুল আলোচনার ঝড় ওঠে। এর কারণ সিপি গ্যাং নামের সংগঠনটি অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রোপাগান্ডা চালানোর জন্য সমালোচিত।
চেক হস্তান্তরের দিন গণমাধ্যমে আইসিটি বিভাগ থেকে পাঠানো তালিকায় সিপি গ্যাং প্রোডাকশন্স লিমিটেডের নাম থাকার বিষয়টি করণিক ভুল (ক্লারিক্যাল মিস্টেক) বলে উল্লেখ করেন আইসিটি বিভাগের উপসচিব (ই-সার্ভিস ডেলিভারি) বিকর্ণ কুমার ঘোষ। একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ‘ভুলবশত তালিকায় সিপি গ্যাং প্রোডাকশন্সের নাম ছিল। আসলে অনুদান পেয়েছে হ্যাপিওয়ার্কস। আমার জানামতে দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান।’
এদিকে হ্যাপিওয়ার্কস ও সিপি গ্যাং প্রোডাকশন লিমিটেড একই ঠিকানাস্থ।ওই ঠিকানায় ‘মিশান হাউস’ নামের পাঁচ তলা দালানে হ্যাপিওয়ার্কস নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তবে তিন তলায় আছে সিপি গ্যাং।
সিপি গ্যাংয়ের আব্দুল হান্নান ওরফে রাসেল রহমান অনুদান প্রাপ্তির প্রথম অবস্থা থেকে এ নিয়ে বিভিন্ন রকমের বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি যে বক্তব্য দেন অন্য জায়গায় এসে ঠিক উলটো কথাই বলছেন।
সিপি গ্যাং প্রোডাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হান্নান (অনলাইন নাম রাসেল রহমান) বুধবার (১ জুলাই) সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন- "আমি নিজেই জানি না কীসের অনুদান হইছে, আসলে আমি নিজেই অবগত না"। তারা তথ্য প্রযুক্তি খাতে কি উদ্ভাবন করেছেন জানতে চাইলেও রাসেল রহমান স্পষ্ট করে কোন উত্তর দেননি।
এদিকে একই দিন সিপি গ্যাংয়ের আব্দুল হান্নান ওরফে রাসেল রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “অনুদান তো অনেকেই পেয়েছে, কিন্তু আমাদের অনুদান পাওয়া নিয়ে এতো কথা হচ্ছে কেন?
“আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি ইনোভেটিভ ফান্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। আমাদের আইডিয়াটা ছিল ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেমের লাইভ স্ট্রিমিং নিয়ে একটি অ্যাপ তৈরি করা।”
রাসেল বলেন, “আমাদের কোনো উদ্যোগ যদি জনগণের কাজে লাগে তাহলে তো কোনো অসুবিধা নেই। আমাদের এ আইডিয়াটি অনেকে পছন্দ করেছে। এ কারণেই হয়তো আমরা অনুদান পেয়েছি।”
এদিকে আইসিটি বিভাগ থেকে সিপিগ্যাং লিমিটেডের অনুদান হ্যাপিওয়ার্কসকে দেওয়া হয়েছে বলে এহন জানানো হলে দেখা যায় সিপি গ্যাং এবং হ্যাপিওয়ার্কস একই ঠিকানা ব্যবহার করে থাকে এবং আব্দুল হান্নান (অনলাইন নাম রাসেল রহমান) একইভাবে হ্যাপিওয়ার্কসেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমন তথ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।
সিপি গ্যাং আর হ্যাপিওয়ার্কস কি একই প্রতিষ্ঠান? দৈনিক প্রথম আলোর এ প্রশ্নের উত্তরে রাসেল বলেন, ‘ওটা (হ্যাপিওয়ার্কস) আমার হতে যাবে কেন? আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন কেন? এটা কার আমি জানি না।’ তিনি এরপর আবার বলেন, ‘এই কাজটি সম্ভবত আমরা করব না। চেক হস্তান্তরের দিন আমি উপস্থিত ছিলাম না। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমরা অনুদান পেয়েছি।’