Sylhet Today 24 PRINT

ফের আলোচনায় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড বিস্ফোরণ ক্ষতিপূরণ মামলা

নিউজ ডেস্ক |  ১৭ জানুয়ারী, ২০১৫

ফের আলোচনায় টেংরাটিলা বিস্ফোরণ ক্ষতিপূরণ মামলা। ক্ষতিপূরণের মামলার অগ্রগতি জানতে এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

নভেম্বর ২০১৪ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় দেয়ার কথা থাকলেও মামলার রায় হয়নি বলে এই উদ্যোগ নিলো সরকার। 

১৭ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীসহ একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল নসরুল হামিদের সফরসঙ্গী হবে। 

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সফরকালে প্রতিমন্ত্রী আইজীবী ও নাইকো কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে ১৯ জানুয়ারি আইজীবী ও নাইকো কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুইটি পৃথক বৈঠক করবেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি মামলার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করবেন। ২০ জানুয়ারি স্কাইপির মাধ্যমে ফের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা হবে। 

সফরের বিষয়ে  নসরুল হামিদ জানান- ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপুটেড- ইকসিড) বাংলাদেশকে একটি জবাব জমা দিতে হবে। তবে বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কোন ধরণের সমঝোতায় যাচ্ছে না বলে জানালেন এই প্রতিমন্ত্রী। 

২০১০ সালের মে মাসে নাইকো ইকসিড এ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে। এই মামলাগুলো হচ্ছে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ না দেয়ার দাবিতে  এবং ফেনী ক্ষেত্রের গ্যাস বিক্রির পাওনার দাবিতে। 

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ চুক্তি করে কানাডীয় কোম্পানি নাইকো। গ্যাস উত্তোলনের জন্য কূপ খননের সময় ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই গ্যাসক্ষেত্রসহ চারপাশের পরিবেশ মারত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুর্ঘটনার কারণে  ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সরকার ও নাইকো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলে। 

সে আলোচনা ব্যর্থ হলে ২০০৮ সালে ঢাকার দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করে পেট্রোবাংলা। কিন্তু তখন পর্যন্ত ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে নাইকো-বাপেক্সের যৌথ চুক্তির অধীনে গ্যাস তুলে জাতীয় গ্রিডে দেয়া হচ্ছিল। 

আদালত ক্ষতিপূরণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত ফেনী ক্ষেত্রের গ্যাস বিক্রি বাবদ নাইকোর পাওনা পরিশোধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং কোম্পানিটির বাংলাদেশে পরিচালিত সবধরনের ব্যাংক হিসাব সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে নাইকোর ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়া হয়। 

ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসের দাম বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাবে নাইকো। 

এ অবস্থায় ২০১০ সালে নাইকো আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশ ও পেট্রোবাংলার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করে। যদিও এখতিয়ার বহির্ভুত হওয়ায় ইকসিড বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে মামলা থেকে বাদ দেন। 

ইকসিডের রায়ের ফলে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের দায়ে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে পেট্রোবাংলার দায়ের করা মামলাটির রায়ের আলোকেই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে বলে তখন আশা করা হয়েছিল কিন্তু তা হয়নি। 

এদিকে দুই মামলার মধ্যে টেংরাটিলার ক্ষতিপূরণ বিষয়ে স্থানীয় আদালতের রায়ই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়ে দেন আর্ন্তজাতিক আদালত। আর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন আদালত। না হলে ইকসিড নিজেই রায় দেবেন। 

১৫ নভেম্বর ২০১৪ এই মামলার রায় দেয়ার কথা ছিল। তবে আরো সময় লাগবে বলে পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে আদালত।



 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.