Sylhet Today 24 PRINT

অভিজিৎ রায় হত্যায় অংশ নেওয়া সাতজন চিহ্নিত

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৭ জুলাই, ২০১৫

লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিৎ রায় হত্যার অপারেশনে অংশ নেওয়া সাতজনকে চিহ্নিত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের মূল অপারেশনে অংশ নেওয়া সাতজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় আমরা পাইনি।

তিনি বলেন, আমরা শুধু তাদের নিকনেম জানতে পেরেছি। তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বের করার চেষ্টা চলছে।

মনিরুল বলেন, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সাতজনই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। তারা সবাই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের মধ্যে একজন মেডিক্যালের ছাত্র।

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ফারাবী শফিউর রহমানকে গ্রেফতার ও রিমাণ্ডে নেওয়া হলে তার কাছ থেকে কোন তথ্য পায়নি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। ফারাবীর বাইরে আর কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

সন্দেহভাজন হিসেবে অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের দিন সংঘঠিত এক বোঠকের আয়োজক লেখক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং এরপর তাকে পুলিশের অনুমতি ছাড়া ঢাকার বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি থেকে পাওয়া ফুটেজ ও অভিজিতের ঘনিষ্টজনদের ফোন কল বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়। পরে ওইসব ছবি এফবিআই'র মাধ্যমে বন্যার কাছে পাঠানো হয়। বন্যা সেসব ছবি দেখেই সাতজনকে শনাক্ত করেন। যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। তাদের অনেকের নাম-ঠিকানাও সংগ্রহ করা হয়েছে। কয়েকজনের আংশিক ঠিকানা পাওয়া গেছে।

তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের স্লিপার সেলগুলোর সমন্বয়ক রেদওয়ানুল আজাদ রানা অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সমন্বয় করেছিলেন। ঘটনার দিন বই মেলায় মোড়ক উন্মোচনের পর রাত ৮টার দিকে রানা একটি কোড মেসেজ পান, যাতে বলা হয়েছে, অভিজিৎ ও বন্যা মেলা থেকে বের হচ্ছেন।

রানা ওই মেসেজটি স্লিপার সেলের আরও দুজনের কাছে পাঠান। যারা টিএসসিতে অভিজিৎ দম্পতির ওপর হামলা চালায়। হত্যাকাণ্ডের মিশন সফল হওয়ার পর রানার মোবাইল ফোনে আরও একটি ম্যাসেজ যায়।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রের কাছ থেকে আট জনের নামের একটি হিটলিস্ট উদ্ধার করেছিল গোয়েন্দারা। গ্রেফতারকৃতরা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর অনুসারী ছিলেন। ওই লিটলিস্টের চার নম্বরে ছিলেন অভিজিৎ।

ব্লগার রাজীব হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা। তিনি রাজীব হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পরও তদন্তে আবার তার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় গোয়েন্দারা। পরে তাকে ধরিয়ে দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে দেশের সকল ইমিগ্রেশনে তার ছবি পাঠায়। কিন্তু তার আগেই রানা দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে টিএসসির সামনে জঙ্গি মৌলবাদীরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে অভিজিৎ মারা যান।

গুরুতর আহত বন্যাকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশ থেকে রক্তমাখা দু’টি চাপাতি ও একটি স্কুলব্যাগ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডের পরের দিন শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতসংখ্যক আসামি করে মামলা করেন অভিজিতের বাবা শিক্ষাবিদ ড. অজয় রায়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.