Sylhet Today 24 PRINT

আমি নির্বাচন করবো না, মোমেন প্রার্থী হবে: মুহিত

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আর নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা পুণরায় জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একইসঙ্গে ভাই আবুল মোমেন এই আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলেও জানিুয়েছেন তিনি

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান মুহিত।

তিনি বলেন, আমি আর নির্বাচন করবো না এটা মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে। তবে আমার নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়টিও চূড়ান্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী।’

যদি নির্বাচন না করেন তাহলে ওই আসনে কাকে রেখে আসছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই মোমেন (এম এ মোমেন)। তার প্রতি আমার আস্থা ও সমর্থন আছে। তবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি মনোনয়ন বোর্ড এটি চূড়ান্ত করবে। আমি আশা করবো তাকে ওই আসনে মনোনয়ন বোর্ড মনোনীত করবে।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ারের ডিভিডেন্ড প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার ও ২৭ ডিসেম্বর ভোট হতে পারে বলে বুধবার একটি অনুষ্ঠানে যে মন্তব্য করেছেন সেটি অনুমান থেকে করা বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও ভোটের তারিখ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

ডিভিডেন্ড প্রদানের ওই অনুষ্ঠানে শেয়ার হোল্ডারদের হাতে ডিভিডেন্ড হস্তান্তর করেন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবুল সাহা। এসময় ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার ডিভিডেন্ড হস্তান্তর করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এমডি হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকে রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল। সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বাংলাদেশ  ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বাংলাদেশকে কোটামুক্ত জিএসপি সুবিধা দেয়নি। তবে এরপরেও আমরা এগিয়ে গিয়েছি। গ্রামীণ ব্যাংকও এখন ভালো চলছে। এটা নিয়ে কোনও সমস্যা নাই।

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি ড. কামাল, বি চৌধুরীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা ও দলগুলো যে দাবি তুলেছে সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর অভিমত জানতে চান সাংবাদিকরা। এর জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি ‘অবান্তর, অবাস্তব এবং বোগাস।’ কারণ, ২০০৮ সালের নির্বাচনে সব দল অংশ নিয়েছে। সেখানে নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ছিল না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আনফরচুনেটলি  একটি বড় দল অংশ নেয়নি। সেটি তাদের বিষয়। কিন্তু, ওই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তো প্রশ্ন তোলেনি। কাজেই তাদের এ ধরনের প্রস্তাব অবাস্তব এবং অবান্তর।’

নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হবে ২৫ জানুয়ারি।  এর আগেই আরেকটি সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে যাবে। আর নতুন সংসদ নির্বাচিত হলে আগের সংসদ অটোমেটিক ভেঙে যায়। তাই সংসদ ভেঙে দেওয়ার কোনও দরকার দেখি না।

বুধবার পৃথক একটি অনুষ্ঠানে আগামী ২০ দিনের মধ্যে  নির্বাচনকালীন সরকার ও ২৭ ডিসেম্বর ভোট হতে পারে বলে যে মন্তব্য তিনি করেছেন সে বিষয়ে সাংবাদিকরা তার দৃষ্টি আর্কষণ করে এটা সরকার বা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যা বলেছি সব অনুমান। তবে ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে এটি মোটামুটি চূড়ান্ত।’

তিনি বলেন, আমি গতকাল (বুধবার) নির্বাচনকালীন সরকার ও ভোটের তারিখের বিষয়টি মোটামুটি অনুমান করে বলেছি। নির্বাচনকালীন সরকার তিন মাস আগে হতে হয়।  সে হিসেবে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে কেউ বলছেন সেপ্টেম্বরের শেষে, কেউ বলছেন অক্টোবরের শুরুতে। ওই সময়টাকে মাথায় রেখে আমার ধারণা আগামী ২০ দিনের মধ্যেই এটা হতে পারে। তবে এটি একেবারেই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আর ভোটের তারিখের বিষয়টাও আমার অনুমান। আমার ধারণা অমন একটা তারিখেই নির্বাচন হতে পারে। তবে এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ ঘোষণা করবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.