সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
ঢাকার দেয়ালগুলোতে মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই দেখা মিলছে নানা রকম গ্রাফিতি। আর এই গ্রাফিতিগুলো যেন হয়ে উঠছে প্রতিবাদের এক ভিন্ন ভাষা। ‘শৈল্পিক প্রতিবাদ’ হিসেবে উঠে আসছে সাধারণ নাগরিকের মনে।
গ্রাফিতির কারণে দেয়ালগুলোতে প্রতিবাদ পাচ্ছে নতুন ভাষা। তাই যখনই নতুন কোনো গ্রাফিতির দেখা মেলে নগরবাসী বিশেষ করে তরুণরা সাথে সাথে তা নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠে।
‘সুবোধ’ ও ‘সহমত ভাই’র পর এবার ঢাকার দেয়ালে আঁকা হয়েছে নতুন গ্রাফিতি-‘হেলমেট ভাই’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের দেয়ালে এই গ্রাফিতি চিত্র দেখা যাচ্ছে। কবে এই গ্রাফিতিটি করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে ধারনা করা হচ্ছে দুই একদিনের ভেতর কোনো এক সময়ে এই গ্রাফিতিটি করা হয়েছে।
গ্রাফিতিতে দেখা যাচ্ছে, সুপারম্যানের সাজে মাথায় হেলমেট পড়ে দাঁড়িয়ে আছে এক ব্যক্তি। বিজ্ঞাপনের ভাষায় লেখা রয়েছে- ‘বাজারে আসছে নতুন কমিকস হেলমেট ভাই। প্রাপ্তিস্থান: গেস্টরুম। প্রকাশক: সহমত ভাই।’
গ্রাফিতির এই ছবিটি মঙ্গলবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নানা মন্তব্য লিখছেন। বেশির ভাগ পোস্টদাতাই ‘সাহসী প্রতিবাদ’ ‘শৈল্পিক প্রতিবাদ’ হিসেবে মন্তব্য করছেন।
‘সহমত ভাই’ কথাটির প্রচলন হয়েছে মূলত ব্যঙ্গাত্মক অর্থে। অর্থাৎ যারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অন্যদের দমন করেন, তাদের যে কোনো কাজের সাথে মতামতে অমিল প্রকাশ করলে নির্যাতন বা হুমকির শিকার হতে হয় বলে সব কথায় সমর্থন দেয়াকেই ‘সহমত ভাই’ হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে ব্যঙ্গ করে।
অন্যদিকে ‘হেলমেট ভাই’ বা ‘হেলমেট বাহিনী’ হিসেবে বলা হচ্ছে হেলমেট পরে মুখ ঢেকে যারা হামলা করে থাকে তাদের ইঙ্গিত করে। মূলত কিশোরদের সড়ক আন্দোলনের সময় হেলমেট পড়ে কিছু দুষ্কৃতিকারী হামলা চালায় সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীদের উপর।
এই ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যম ও ফেসবুকে। এরপর থেকেই তাদেরকে ইঙ্গিত করে ‘হেলমেট ভাই’ বা ‘হেলমেট বাহিনী’ বলা হয়। সাধারণত ফেসবুকে ও সামাজিক মাধ্যমে এই সব শব্দ ট্রল করার জন্য ব্যবহার হয়।
কিছু দিন আগে রোকেয়া হলের দেয়ালে করা ‘সহমত ভাই’ নামে আরেকটি গ্রাফিতি চিত্র আলোচিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর আদলে ওই গ্রাফিতিটিতে যেখানে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকে সেখানে লেখা ছিলো ‘মেশিন’। আর উপরে লেখা ছিলো ‘সহমত ভাই’। যদিও মুছে ফেলা হয়েছে ওই বিদ্রূপমূলক গ্রাফিতিটি।
একই সময় ডেঞ্জার নামে আরেকটি গ্রাফিতি দেখা গিয়েছিলো। বিপদজনক চিহ্নের আদলে করা ওই গ্রাফিতিটিতে মানুষের মাথার কঙ্কালের জায়গায় একটি হেলমেট তার নিচে হাড়ের জায়গায় হাতুড়ি ও লাঠি ছিল। এসব গ্রাফিতি চিত্রগুলো ছড়িয়ে পড়েছিলো সামাজিক মাধ্যমগুলোতে।