সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ জুলাই, ২০১৫
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুই দুর্নীতি মামলার বাদীর অসমাপ্ত জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন আগামি ৩ আগস্ট রেখেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এই তারিখ ঠিক করে দেন।
বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কারা অধিদপ্তর প্যারেড মাঠে বিশেষ এজলাসে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানি চলছে। বেগম খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সোয়া পাঁচ কোটি টাকা দুর্নীতির এ দুই মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে পৌঁছান। দেড় ঘণ্টার বেশি সময় শুনানি চলার পর বিএনপি নেত্রী গুলশানে তার বাসায় ফিরে যান।
গত ১৮ জুন জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদকে জেরা শুরু করে আসামিপক্ষ। বৃহস্পতিবার খালেদার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বাদীর অসমাপ্ত জেরা শুরু করেন।
খন্দকার মাহবুব বলেন, দুদকের এই মামলায় সরকারি কর্মকর্তাদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে তখনকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তার ব্যক্তিগত ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি ‘ক্ষমতার প্রভাবে’ দুদক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা কয়েকটি মামলা প্রত্যাহার বা চূড়ান্ত রিপোর্ট দিলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তা করেনি। পরে জেরা অসম্পূর্ণ রেখেই শুনানি মুলতবি করে আদালত। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জেরার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বাদীর জবানবন্দি বাতিল করে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন খালেদা। কিন্তু গত ৬ জুলাই হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ তা খারিজ করে দেয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে জানিয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন জজ আদালতে এ মামলায় সময়ের আবেদন করেন। এরপর বিচারক বিষয়টি নথিভুক্ত করে ৩০ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ দিলেও খালেদার আইনজীবীদের অনুরোধে পরে ৩ অগাস্ট দিন ঠিক করে দেন।
২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট এবং ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দুটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলা দুটিতে প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ৭১ লাখ ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ এবং দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ করেছে দুদক।