সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ জুলাই, ২০১৫
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের নিম্নমুখী দামের সঙ্গে দেশীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয় করায় ক্রেতারা এখন তুলনামূলক কম দামে স্বর্ণ ও অলংকার কিনতে পারবেন। এছাড়া আরও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বিএজেইউএস) এই মূল্য সমন্বয় করে বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর করেছে। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ব্যাপক মূল্য পতনের পরেই দেশীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হলো।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৫ বছরের সর্বনিম্ন আউন্স প্রতি ১০৯২.৪০ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
বিএজেইউএস সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে দেশীয় বাজারে স্বর্ণ ভরি প্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ১৫০০ টাকা কমেছে। ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি প্রতি মূল্য দাঁড়াবে ৪২ হাজার ৯৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩৪ হাজার ২৩৩ টাকা এবং প্রচলিত (সনাতন) ২২ হাজার ৮৬১ টাকা।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা গোল্ডম্যান স্যাক্স জানিয়েছে, সোনার দাম আরো পড়বে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে লগ্নিকারীরা সোনা বিক্রি শুরু করেছে, যার ফলে আরো পড়ছে দাম। সংস্থাটির মতে, সোনার দাম হাজার ডলারের ঘরে নেমে আসবে। বুধবার ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোল্ডম্যান স্যাক্সের হেড অব কমোডিটিজ জেফরি কারিই বলেন, 'সোনার বাজারের বাজে সময় এখনো আসেনি। সোনার প্রতি আউন্সের দর এ বছরের মধ্যেই ১০০০ ডলারের নিচে নামবে। ডলারের দর বাড়ার কারণে সোনা দিন দিন গুরুত্ব হারাচ্ছে।'
নেদারল্যান্ডভিত্তিক এবিএন এম্রো ব্যাংক তাদের সাপ্তাহিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ সোনার প্রতি আউন্সের দর ১০০০ ডলারের নিচে নামবে। আর ২০১৬ সালের মধ্যেই তা বিক্রি হবে ৮০০ ডলারে।
বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে সোনা অলংকার হিসেবে ব্যবহার হলেও বিশ্বের মোট সোনার বড় অংশই বিনিয়োগ হিসেবে মজুদ করে বিভিন্ন দেশ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তবে মজুদ করা সোনা থেকে কোনো লভ্যাংশ মেলে না, সুদও পাওয়া যায় না। দাম বাড়লেই শুধু মুনাফা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার সময় যখন বিশ্বজুড়ে ডলারের দরপতন হতে থাকে, তখন অনেক দেশ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ডলার না রেখে তা দিয়ে সোনা কিনে মজুদ করতে থাকে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মন্দার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, ডলারের মানও বাড়ছে। এ কারণে সোনা মজুদে আগ্রহ কমছে।