সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৫ জানুয়ারী, ২০১৯
আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অপেক্ষায় তাঁর প্রিয় শহর কিশোরগঞ্জ। যদিও দুই বছর আগে সর্বশেষ কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। অনেক দিন বাদে আবারও তিনি আসছেন, প্রিয় শহরে। তবে প্রাণহীন যাত্রা। শোকের মিছিল হয়ে।
কিশোরগঞ্জের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মহান এই নেতার জন্য। বেদনাবিধুর চিত্তে শেষ দেখা আর চোখের জলে শেষ বিদায়ের জন্য প্রস্তুত তারা। রাত পোহালে কিশোরগঞ্জে আসছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ।
আজ কিশোরগঞ্জে এমন একজন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা যার হৃদয়ে আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে বেদনার সুর বাজছে না। পুরো কিশোরগঞ্জে এখন ব্যাকুল হয়ে প্রতীক্ষায় আছে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে।
জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, রোববার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে হেলিকপ্টার যোগে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ কিশোরগঞ্জ আনা হবে। জানাজার পর লাশ ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সৈয়দ আশরাফের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে রোববার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। এরপর মরদেহ হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হবে ময়মনসিংহ এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে। সেখানে জানাজা শেষে বিকালে ঢাকার বনানী গোরস্তানে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ দাফন করা হবে।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের পহেলা জানুয়ারি ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। গত বছরের ৩ জুলাই থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত বর্ষীয়ান রাজনীতিক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। এ নিয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ আশরাফ মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি এক মেয়ে এবং বহু রাজনৈতিক সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী এবং নেতাকর্মী রেখে গেছেন।