সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৯ আগস্ট, ২০১৫
গত ৬ মাসে ৪ ব্লগার হত্যার ঘটনায় দেশে-বিদেশে যখন সমালোচিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ সরকার ও পুলিশ প্রশাসন তখন ব্লগারদের লেখালেখির ব্যাপারে ‘সীমা লঙ্ঘন’ না করার পরামর্শ দিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।
সেই সঙ্গে কারও লেখা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো হলে সে ক্ষেত্রে পুলিশকে তা জানানোর পরামর্শও দিয়েছেন এ কে এম শহীদুল হক।
নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডের দুই দিন বাদে রবিবার (৯ আগস্ট) দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আইজিপি।
অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু ও অনন্ত বিজয় দাশ খুন হওয়ার পর তাকে অনুসরণ করা হচ্ছি এ আশঙ্কা থেকে, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে থানায় জিডি করতে গেলেও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা তা না নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে ফেসবুকে লিখে গিয়েছিলেন নিলয়।
প্রাথমিক তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি জানিয়ে আইজিপি বলেন, “তবে এখনও তদন্ত চলছে। যদি তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া যায়। তাহলে সেই পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।”
গত ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে অভিজিৎ রায়, মার্চে ওয়াশিকুর রহমান বাবু, মে মাসে অনন্ত বিজয় দাশ এবং সর্বশেষ নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়কে (নিলয় নীল) খুন করে জঙ্গি মৌলবাদীরা। অনেকটা ঘোষণা দিয়েই এবং তালিকা প্রকাশ করেই খুনগুলো সংঘঠিত হচ্ছে, কিন্তু পুলিশ কিছুই করতে পারছে না।
তিনটি হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিরা জড়িত বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলেও প্রকৃত খুনিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে এসব মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাবুর হত্যাকাণ্ডস্থল থেকে জনতা দুজনকে ধরে পুলিশে দেয়।
এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে আইজিপি বলেন, “এখানে আমার একটা বক্তব্য আছে। মুক্তমনা, তারা তো থাকবে। তাদের প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধাবোধ আছে।
“তবে আমাদের যে জিনিসটা খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দেশে প্রচলিত আইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা অপরাধ। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীর সাজা ১৪ বছর। তবে কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে তাকে হত্যা করতে হবে, তা মানা যায় না।”
কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে, তার বিরুদ্ধে মামলা হলে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান শহীদুল হক।
“পাশাপাশি যারা মুক্তমনা লেখেন, তাদের কাছে এবং আপনারা যারা আছে তাদের কাছে অনুরোধ, আমরা যেন সীমা লঙ্ঘন না করি। এমন কিছু লেখা উচিত নয়, যেখানে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে, বিশ্বাসে আঘাত আনে।”
আইজিপি বলেন, “নিলয়ের হত্যা কোনোভাবে কাম্য নয়। হত্যাকারীকে খুঁজে বের করা হবে।”
নিলয়সহ আগের ব্লগারদের হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করে আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার নামে বার্তা এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইও সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।
জঙ্গি দমনে পুলিশ ৮০ ভাগ সফল দাবি করে আইজিপি বলেন, জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত ৬৩২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১৬টিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার ৫৪৩ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।