Sylhet Today 24 PRINT

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ প্রমাণিত

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৭ মে, ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

সোমবার (২৭ মে ) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

এরআগে গতকাল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। প্রতিবেদনে ওসির বিরুদ্ধে সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলায় ১২৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। অপরদিকে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওসির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সদর দফতরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রীমা সুলতানা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল জানিয়েছেন, রাফি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে এ মাসেই অভিযোগপত্র দেয়া হবে। এতে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৬ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হতে পারে।

পিবিআই জানায়, গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আদালতে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্তে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। বোরকা পরিহিত কয়েকজন কৌশলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি। এর আগে ২৭ মার্চ রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ পর্যন্ত রাফি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ২২ জনের মধ্যে সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

 

 




টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.