সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৭ আগস্ট, ২০১৫
২৩ বছর আগে ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ৭৬ জন মারা যাবার একটি ঘটনায় ছয় জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ ড্রাগ আদালতের দেওয়া রায়ে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বিসিআইবির ৬ পরিচালক ও কর্মকর্তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। আসামীদের মধ্যে একজন পরিচালক ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছে।
১৯৯২ সালে দেশের বিভিন্নস্থানে ওই কোম্পানির ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর ওই সিরাপ উৎপাদনকারীদের ধরতে অভিযানে নামে ড্রাগ অধিদপ্তর।
ওই বছরের ১৯ নভেম্বর প্যারাসিটামল তৈরিতে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগে বিসিআইবির ২ পরিচালকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ওষুধ প্রশাসনের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক আবুল খায়ের।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নাদিম মিয়া বলেন, আমরা বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য উপস্থাপন করে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে আসামীরা ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ তৈরি করে একটি বড় অপরাধ করেছে।
আসামী পক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জানান, আমাদের বিরুদ্ধে মামলায় করা অভিযোগ প্রমান হয়নি। এরপরও মহামান্য আদালত আমাদের সাজা দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিসিআইবির পরিচালক শাহজাহান সরকার। তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পলাতক ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
এখানে উল্লেখ করা যেতে বাংলাদেশে ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত চারটি ঔষধ কোম্পানির তৈরি প্যারাসিটামল সিরাপে ক্ষতিকর উপাদান ছিল এমন অভিযোগে মামলাটি চলছিল এবং ওই প্যারাসিটামল খেয়ে বাংলাদেশে ৭৬টি শিশু মারা গিয়েছিল বলেও অভিযোগও রয়েছে।
একই অভিযোগের আরেকটি মামলায় গত বছর অ্যাডফ্লেম নামে আরেকটি ঔষধ কোম্পানির আরও তিনজনকে দশ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত।