সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৮ আগস্ট, ২০১৫
মাগুরায় আওয়ামী লীগ সমর্থক দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার মামলার অন্যতম প্রধান আসামি পুলিশের সঙ্গে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন। নিহত মেহেদী হাসান আজিবর ওরফে অজিবর শেখ এই মামলার ২ নম্বর আসামি।
গত ২৩ জুলাই মাগুরায় সংঘর্ষের সময় তার ছোড়া গুলিতেই একজন নিহত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগমও গুলিবিদ্ধ হন।
জানা যায়, আজিবর এক সময় পৌর ছাত্রলীগের কমিটির সদস্য ছিলেন। তার বাবা আবদুল মালেক আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। ৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বোমা বানাতে পারদর্শিতার কারণে মাগুরায় তিনি ‘বোমা মালেক’ হিসেবে পরিচিত।
এর আগে পলাতক আজিবর ধরা পড়ছেন বলে সোমবার মাগুরায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের কর্তা-ব্যক্তিদের কেউ সেই খবর স্বীকার করেননি।
মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে পুলিশ জানায়, রাত ১টার দিকে জেলা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় আজিবর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
মাগুরার পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “আজিবরসহ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দোয়ারপাড় এতিমখানা এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল সেখানে যায়।
“সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করে। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে আজিবর শেখের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।”
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে বলে দাবি করেন এহসান উল্লাহ।
গুলিবিদ্ধ নাজমার দেবর কামরুল ভূইয়ার সমর্থকদের সঙ্গে এলাকার আধিপত্য নিয়ে গত ২৩ জুলাই জেলা শহরের দোয়ারপাড়া এলাকায় সংঘর্ষ বাঁধে আজিবর ও মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের। এতে কামরুলের চাচা মোমিন ভূইয়া নিহত ও ভাবি নাজমা গুলিবিদ্ধ হন।
নাজমার গর্ভস্থ সন্তানও গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। গুলির দাগ নিয়ে ভূমিষ্ঠ শিশুটি এখন আশঙ্কামুক্ত। মা ও মেয়ে দুজনেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনায় মোমিনের ছেলের দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সেন সুমন গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। ঢাকার কল্যানপুর থেকে গত ২ আগস্ট সেন সুমনকে গ্রেফাতার করা হয়।
মামলার ১৬ আসামির মধ্যে পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মোহাম্মদ আলীসহ ৬ জন এখন পলাতক।