Sylhet Today 24 PRINT

শিশু অধিদপ্তরের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ৩০ জুলাই, ২০১৯

শিশু অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত সংগঠন ‘এক রঙ্গা এক ঘুড়ি’ ও ‘গুড নেইবারস বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন অন চাইল্ড রাইটস’ শীর্ষক দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে শিশু অধিদপ্তরের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের দাবি জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, শিশু অধিকার সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানামুখী কার্যক্রম চলছে। এই কাজের যেমন সমন্বয় প্রয়োজন, তেমনি কার্যক্রমগুলো অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া দরকার। সরকার দ্রুতই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) জাতীয় যাদুঘর মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এক রঙ্গা এক ঘুড়ি ’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এস এম মাসুদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পথ-শিশু পুনর্বাসন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. আবুল হোসেন, গুড নেইবারস বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইনুদ্দিন মইনুল, শাপলা নীড় (জাপান)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস তমকো উচিয়ামা এবং ওয়ান ২ থিঙ্ক এর ফাউন্ডার মিস নাদিরা মালেক।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন পথ শিশুদের নিয়ে কর্মরত সংগঠনগুলোর জোট স্ক্যান সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুল হক টুকু বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশে শিশুদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। তখন অনেক বিদেশি সংস্থাও সরকারকে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিলো। শিশুদের অধিকার নিশ্চিত না করতে পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতের যে কোন সময়ের থেকে এখন শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমেছে। শিশু অধিদপ্তর গঠনের কাজও দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, শিশুদের নিয়ে সরকারি অনেকগুলো সংস্থা কাজ করছে। বিশেষ করে শিশু একাডেমি অনেক কাজ করে থাকে। এক সময়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সৃষ্ট এই সংস্থাকে দিয়ে সকল কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই শিশু অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অপ্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এই অধিদপ্তরের কার্যক্রম চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উত্থাপিত মূল প্রবন্ধে মনিরুজ্জামান মুকুল বলেন, ১২-১৮ বছর শিশুদের ৬৪ শতাংশ বিবাহ হয়ে যায় ১৮ বছরের হওয়ার আগেই (ইউনিসেফ ২০০৮), শিশু শ্রমের সাথে জড়িত ১৩ শতাংশ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার (ইউনিসেফ ২০০৮), ৬৩ শতাংশ মেয়ে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার (ইউনিসেফের গবেষণায়), ৩৩ শতাংশ ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ), জন্ম নিবন্ধন না থাকার কারণে শিশুদের পাচার এবং শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে (ইউনিসেফ ২০০৮)। এবিষয়ে সরকারী বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দিনব্যাপী ওই অনুষ্ঠানে সকালে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিকেলে পুরস্কার বিতরণী করা হয়। এছাড়া পাপেট শো ও শিশু অধিকার বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর আয়োজন ছিলো।

অনুষ্ঠানে শিশু শ্রম ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কর্মরত ব্যক্তি ও বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.