সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ আগস্ট, ২০১৫
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি অ্যাক্ট)-২০১৩ সংশোধন করতে সরকারের প্রতি একটি লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ, আইন ও তথ্য সচিব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিবকে নোটিসটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. ইউনুস আলী আকন্দ।
নোটিসে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই আইনের ৫৭, ৮৬ এবং ২০১৩ সালে সংশোধিত আইনের ৪২ নম্বর ধারা বাতিল চাওয়া হয়েছে। যথাসময়ে নোটিশের জবাব না দিলে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।
ইলেকট্রনিক ফর্মে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও এর দণ্ড সম্পর্কে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধরায় বলা হয়েছে- (এক) কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ। (দুই) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
এ ব্যাপারে আইনবিদদের মত, আইনটিকে অনেক বিষয় একসঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোটাই সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। যে কারণে আইনের এ ধারা দিয়ে হয়রানির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে, ভিন্নমত দমনের জন্য এটা একটা বেশ কার্যকর আইন। ২০০৬ সালের বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় এ আইনটি প্রণয়ন করা হলেও এই আইন পাস হওয়ার পর থেকে এর প্রয়োগ কিংবা ব্যবহার নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি।
২০১৩ সালে ২১ আগস্ট এই আইনে সংশোধনী আনা হয়। সংশোধনীতে ৫৭ নম্বর ধারাটিতে পরিবর্তন এনে কারাদণ্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি করে অন্যূন সাত বছর এবং অনধিক ১৪ বছর করা হয়। ধারাটি প্রথম থেকেই ছিল অজামিনযোগ্য কিন্তু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ এর সব ধারাই ছিল অআমলযোগ্য।
আইনবিদরা বলছেন, এর অর্থ দাঁড়ায়- পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই আইনে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না। নতুন সংশোধনীতে এই আইনকে আমলযোগ্য করায় পুলিশের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকল না। পুলিশ চাইলেই যেকোনো সময় যেকাউকে এই ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে গ্রেপ্তার করতে পারবে।
অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৮৬ ধারায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক ধরনের ইনডেমনিটি প্রদান করা হয়েছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। এতে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ড. মো. ইউনুস আলী আকন্দ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (সংশোধনী) ৫৭ ও ৮৬ ধারা সংবিধানের ৭(২), ১১, ১৯, ২১(২), ২৬ (১), ২৬(২), ২৭, ২৮(১), ২৮(২), ৩১, ৩২, ৩৯(১), ৩৯(২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আইনটির ধারা দুটি বাতিলে সরকারের পদক্ষেপ চেয়ে নোটিসটি দেওয়া হয়েছে।