Sylhet Today 24 PRINT

বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪ পদের ১০টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা জয়ী

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৭ আগস্ট, ২০১৫

আইনজীবীদের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও আইন পেশার সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪টির মধ্যে ১০টি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।

অনানুষ্ঠানিক এ ফলাফলের পর সাদা প্যানেলের জয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা  বার কাউন্সিলের নেতৃত্বে থেকে একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। আইনজীবীদের কল্যাণমূলক কাজ করেনি। আমরা নতুন কমিটি করে আইনজীবীদের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবো।
 
অপরদিকে নীল প্যানেলের জয়ী প্রার্থী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচনের ফলাফল পাইনি। তবে শুনেছি সাদা প্যানেল সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়েছে। সরকার সমর্থিতরা যেভাবে আইনজীবীদের রঙিন স্বপ্ন দেখিয়েছেন সেটা বাস্তবায়ন হলে আমিও খুশি হবো। তবে সে স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থক সাদা প্যানেলের বিজয়ী দশজন হলেন- সাধারণ আসনে ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম, আবদুল বাসেত মজুমদার, আবদুল মতিন খসরু, জেড আইন খান পান্না এবং গ্রুপ আসনে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, এইচ আর জাহিদ আনোয়ার, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, পারভেজ আলম খান, মো. ইয়াহিয়া ও মো. রেজাউল করিম।

বিএনপি- জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থীরা সাধারণ আসনের ৩টি এবং গ্রুপ আসনের একটি পদে বিজয়ী হয়েছে। সাধারণ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। গ্রুপ আসন থেকে জয় পেয়েছে কাইমুল হক।

কয়েক দফা পেছানোর পর বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র, দেশের জেলা সদরের সব দেওয়ানী আদালত প্রাঙ্গণে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথমে গত ২০ মে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এক আবেদনে সেটি পিছিয়ে ২৭ মে দিন ধার্য করা হয়। এরপর আবার হাইকোর্টের এক আইনজীবী বার কাউন্সিল নির্বাচন-২০১৫ এর তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করলে হাইকোর্ট তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন।

হাইকোর্টের এ আদেশের স্থগিতাদেশ চেয়ে বার কাউন্সিল থেকে আপিল দায়ের করলে ভোটার তালিকা হালনাগাদের শর্তে আপিল বিভাগ প্রথমে ১৩ আগস্ট তারিখ ধার্য করে দেন। পরবর্তীতে আবারও সময় আবেদন করলে ২৬ আগস্ট পরবর্তী তারিখ ধার্য করে দেন। সে মোতাবেক বুধবার বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতি তিনবছর অন্তর অন্তর বার কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বার কাউন্সিল ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

আর বাকি ১৪ জন আইনজীবী সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এই ১৪ জনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে একজন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এবারের বার কাউন্সিল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় পরিষদের প্যানেলে ছিলেন- এম আমীর-উল-ইসলাম, আবদুল বাসেত মজুমদার, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আবদুল মতিন খসরু, পরিমল চন্দ্র গুহ, জেড আই খান পান্না ও শ.ম. রেজাউল করিম।

গ্রুপ অনুযায়ী ছিলেন গ্রুপ-‘এ’ ঢাকা আসনে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, গ্রুপ-বি আসনে আলহাজ এইচ আর জাহিদ আনোয়ার, গ্রুপ- ‘সি’ আসনে ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, গ্রুপ- ‘ডি’ আসনে সরোয়ার আহম্মেদ চৌধুরী আবদাল, গ্রুপ- ‘ই’আসনে পারভেজ আলম খান, গ্রুপ-‘এফ’ আসনে মো. ইয়াহিয়া ও গ্রুপ-‘জি’ আসনে রেজাউল করিম।

অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলে ছিলেন- খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ. জে. মোহাম্মদ আলী, এ.এম. মাহবুব উদ্দিন (খোকন), সানাউল্লাহ মিয়া, বদরুদ্দোজা (বাদল), আলহাজ মো. বোরহান উদ্দিন ও মহসিন মিয়া।

গ্রুপ-‘এ’ আসনে ছিলেন গোলাম মোস্তফা খান, ‘বি’ আসনে মোহাম্মদ আবদুল বাকী মিয়া, ‘সি’ আসনে কবির চৌধুরী, ‘ডি’ আসনে কাইমুল হক, ‘ই’ আসনে আবদুল মালেক, ‘এফ’ আসনে মো. ইসহাক ও ‘জি’ আসনে এ. কে. এম. হাফিজুর রহমান।

সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল ছাড়াও আইনজীবী ঐক্য পরিষদ ও আইনজীবী ঐক্য ফ্রন্ট নামে আরো দুটি প্যানেল দেওয়া হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.