সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৮ আগস্ট, ২০১৫
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক শাম্মি হক।
একের পর এক মুক্তমনা ব্লগার খুন হওয়ার পরিস্থিতির মধ্যে তাকেও ‘অনুসরণ করা হচ্ছে’ জানিয়ে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন গণজাগরণ আন্দোলনে স্লোগান দেয়ার কাজে মুখর থাকা এই কর্মী। শাম্মী হক শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় এসে এই জিডি করেন বলে ওসি মো. জামাল উদ্দিন মীর জানান।
নিয়মিত ইস্টিশন ব্লগে ব্লগিং করা শাম্মীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি লালমাটিয়ার মীনা বাজারে যাওয়ার সময় আনুমানিক ২৭-২৮ বছর বয়সী দুই যুবক তাকে অনুসরণ করে।তিনি বলেন, “আমি দেখলাম, আমি হাঁটলে তারাও হাঁটে। আমি দাঁড়ালে তারাও থেমে যায়। অনুসরণ করছে বুঝতে পেরে আমি পাশের একটি শপিং মলে ঢুকে যাই। কিন্তু তারাও ভেতরে ঢোকে।”
এরপর শপিং মলের ভেতরে পরিচিত একজনের সঙ্গে শাম্মীর দেখা হয় এবং তিনি মোবাইল ফোনে ‘অনুসরণকারী’ দুই যুবকের ছবি তুলে রাখেন। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ওই দুই যুবক চলে গেলে শাম্মীও বাসায় ফেরেন বলে জানান।
তিনি বলেন, “একের পর এক ব্লগার হত্যা হচ্ছে। আমাকেও ফেইসবুকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে নিরাপত্তা চেয়ে আমি জিডি করতে বাধ্য হয়েছি।” মোবাইলে তোলা ওই দুই যুবকের ছবি পুলিশকে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
শাম্মীর জিডির পর তার এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. জাহিদ জানান।
গত ৭ অগাস্ট ঢাকার পূর্ব গোড়ানে নিজের বাসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কেও অনুসরণ করা হয়েছিল বলে তিনি ফেসবুকে জানিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তিনি জিডি করতে গেলে পুলিশ তা না নিয়ে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল বলেও ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন নিলয়।
নিলয়কে নিয়ে চলতি বছরই মোট চারজনকে জঙ্গি কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা দলের কয়েকজনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করা হলেও কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু মীমাংসা করতে পারেনি পুলিশ।