সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হল হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
পুরোহিতের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ, আবহ সঙ্গীত, ধর্মীয় আলোচনা সভা ও ভক্তিমূলক গানের মাধ্যমে দেবীকে মর্ত্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বলা হয়, মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হল দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গার আগমনের ক্ষণগণনা। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রঞ্জিত চক্রবর্তী এ ব্যাপারে জানান, হিন্দু আচার অনুযায়ী, মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা- এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব।
শারদীয় দুর্গাপূজা শুরুর ছয় দিন আগে হয় মহালয়া। আর দেবীপক্ষের শুরু হয় মহালয়ার মাধ্যমে। এর আগের পক্ষ হল পিতৃপক্ষ। এ পক্ষে ভক্তরা তাদের পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির জন্য অন্ন-জল নিবেদন করেন। শাস্ত্রে একে বলা হয় তর্পণ। জানা গেছে, সোমবার ভোর থেকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ সারা দেশে শুরু হয় মহালয়ার আচার-অনুষ্ঠান।
ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে শুরু হয় মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা। প্রথমে চণ্ডীপাঠ করে আহ্বান জানানো হয় দেবীকে। এ সময় মঙ্গলঘট স্থাপন করে তাতে ফুল, তুলসী ও বেলপাতা দিয়ে পূজা করা হয়। এছাড়া সারা দিন বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় মহালয়া।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আরেক পুরোহিত ধীমান দাস বলেন, মহালয়ার প্রাক-সন্ধ্যায় অর্থাৎ শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে কাত্যায়নী মুনির কন্যা রূপে মহিষাসুর বধের জন্য দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোটকে চড়ে, যাবেনও ঘোটকে চড়ে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধীমান দাস বলেন, “দেবীর ঘোটকে আগমন মানে সবকিছু ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া। এর মানে দেবী আমাদের এক সতর্কবার্তা দিয়েই আসছেন। সুখ দুঃখকে পাশাপাশি রেখে আমরা পথ চলব।”
আগামী ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হবে দেবী দুর্গার বোধন। ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় দুর্গাদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে পূজার মূল আচার অনুষ্ঠান শুরু হবে।
৫ অক্টোবর সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের পর শুরু হবে মহাসপ্তমী পূজা। ৬ অক্টোবর মহাষ্টমী পূজা, সেদিন হবে সন্ধিপূজা । রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে হবে কুমারী পূজা।
৭ অক্টোবর সকাল বিহিত পূজার মাধ্যমে হবে মহানবমী পূজা। ৮ অক্টোবর সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।