Sylhet Today 24 PRINT

‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৪ টাকা করেও ত্রাণ পেয়েছে’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

চলতি বছরের বন্যায় দেশের ২৮ উপজেলার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ১৯৮৮ সালের ক্ষয়ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে এর বিপরীতে যে সরকারি সহায়তা মিলেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। এই ত্রাণ বিতরণেও হয়েছে নানামুখী অনিয়ম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৪ টাকা করেও ত্রাণ পেয়েছে।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির বন্যা-পরবর্তী এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, বন্যার ত্রাণ বিতরণে তালিকা করা হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। এতে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রীর দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের ব্যয় মেটানো হয়েছে ত্রাণের টাকা থেকে। ত্রাণ পরিবহনের বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে তা বিক্রি করেছেন চেয়ারম্যানেরা। সবকিছুর পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি সর্বনিম্ন ত্রাণ পেয়েছে চার টাকা করে। আর সর্বোচ্চ ত্রাণ যেখানে দেওয়া হয়েছে, সেখানে পেয়েছে ৭৬ টাকা পরিবার প্রতি। এ ছাড়া বন্যা পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরপ্রতি গড়ে ২০ টাকা থেকে ৭৭২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় যা খুবই সামান্য।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বন্যায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি। জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যাশিত ভূমিকা ছিল না। স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ কম, বাজেট ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া প্রশাসনের ভূমিকাতে ঘাটতি ছিল। ত্রাণ বিতরণে চালের পরিমাণ কম দেওয়া হয়েছে। কাউকে কাউকে দুবার দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীরা বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন তাদের কাজের অংশ হিসেবেই। তবে কোথাও কোথাও মন্ত্রীর পরিদর্শন ব্যয় মেটানো হয়েছে, ত্রাণের বরাদ্দ থেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের বন্যায় ২৮ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। পানিবন্দী ছিল ৪০ লাখ মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ শতাংশ খানার ফসলি জমি বালি পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমিতে বালির কারণে আগামী ২ থেকে ৩ বছর ভালো ফসল না হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে গবেষণায়।

টিআইবি বলছে, ১৯৮৮ সালের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কম পানি প্রবাহিত হলেও এবারের বন্যায় ক্ষতির ব্যাপকতা বেশি হওয়ার কারণ—পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে যাওয়া ও পানি নদীর তীর ছাপিয়ে যাওয়া।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.